মৌসুমের শুরুতে ড্রয়ের বৃত্তে পিএসজি

প্রথম ম্যাচে রেনাইসের সাথে ড্রয়ের পর লিলের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, লুইস এনরিকের চ্যাম্পিয়ন স্কোয়াডে এখন একাধিক সংকট তৈরি হয়েছে।

লিলের বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে কোনোমতে ২-২ ড্র করে মাঠ ছেড়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ফলে টানা দুই লিগ ম্যাচে ড্র করে নতুন মৌসুম শুরু করল গেল দুইবারের ইউসিএল চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে রেনাইসের সাথে ড্রয়ের পর লিলের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, লুইস এনরিকের চ্যাম্পিয়ন স্কোয়াডে এখন একাধিক সংকট তৈরি হয়েছে।

​মাঠে সবচেয়ে বড় ক্ষত তৈরি হয়েছে লেফট ব্যাক পজিশনে, যেখানে নুনো মেন্ডেস না থাকায় পিএসজি একদমই সুবিধা করতে পারেনি। এনরিকের সিস্টেমে মেন্ডেস শুধুমাত্র রক্ষণের কাজ করেন না। উইং দিয়ে ওভারল্যাপ করা, গতি দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাকলাইন ভেঙে ফেলা এবং বিপক্ষের হাই প্রেস রিকভার করার মূল কারিগর তিনি।

মেন্ডেস না থাকায় বাঁ দিক থেকে আক্রমণের ধার যেমন কমে গেছে, তেমনি ওই পজিশনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে লিল ও রেন দুই দলই একের পর এক কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করেছে। লাল কার্ড জনিত কারণে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ রয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ম্যাচে তিনি ফিরলেও তাঁর অনুপস্থিতিতে কিংবা সাবস্টিটিউটে বেশ বেগ পেতে হবে পিএসজিকে।

আক্রমণভাগে ফিনিশিংয়ের দৈন্যদশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বলের দখলে দল আধিপত্য দেখালেও বক্সের ভেতর বল পাঠানোর সঠিক লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর যোগ হয়েছে ওসমান ডেম্বেলেকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

​রেনাইসের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচের মাঝপথেই ডেম্বেলেকে তুলে নিয়েছিলেন কোচ এনরিকে। আর লিলের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে একাদশ তো দূরের কথা, স্কোয়াডেই রাখেননি। মূল ক্রিয়েটর স্কোয়াডের বাইরে থাকায় এবং অফফর্মে পড়ায় ডান উইংয়ের চেনা গতি হারিয়েছে দল। তরুণ অ্যাটাকিং লাইন প্রতিপক্ষের লো ব্লক ডিফেন্সে গিয়ে আটকা পড়ছে এবং ফাইনাল থার্ডে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান দিতে পারছে না।

​মেন্ডেসের নিষেধাজ্ঞা, ডেম্বেলের অনুপস্থিতি এবং কাউন্টার অ্যাটাকে ডিফেন্সের দুর্বলতা – সব মিলিয়ে দুই ম্যাচেই চার গোল হজম করে পয়েন্ট হারিয়েছে পিএসজি। লিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় এক পয়েন্ট মিললেও, দ্রুত এই ট্যাকটিক্যাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে লুইস এনরিকেকে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link