হ্যারি পটারের কলমে মেসির বিদায়ী চিঠি!

নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটে সাদামাটা পাতা। ওপরে সপ্তাহের দিনের নাম লেখার ছোট্ট ঘর, আর তার পাশে একটা সোনালি রঙের কলম—এই সামান্য উপকরণ দিয়েই যেন ইতিহাসের একটা অধ্যায় বন্ধ করে দিলেন লিওনেল মেসি।

নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটে সাদামাটা পাতা। ওপরে সপ্তাহের দিনের নাম লেখার ছোট্ট ঘর, আর তার পাশে একটা সোনালি রঙের কলম—এই সামান্য উপকরণ দিয়েই যেন ইতিহাসের একটা অধ্যায় বন্ধ করে দিলেন লিওনেল মেসি।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিটা প্রথম দেখায় মনে হতে পারে নিছক এক ফুটবলারের বিদায়ী চিঠি। কিন্তু আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো যেভাবে প্রতিটা খুঁটিনাটি খুঁড়ে বের করেছে, তাতে বোঝা যায়—এই বিদায়ও মেসির মতোই, প্রতীকে ঠাসা।

চিঠিটা লেখা হয়েছিল গত ২১ জুলাই, বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ঠিক দুই দিন পর। অথচ প্রকাশ করতে লেগে গেল দেড় মাসেরও বেশি সময়। কারণ ছিল বাবা হোর্হে মেসির অসুস্থতা, যা শেষ পর্যন্ত ৮ আগস্ট রোজারিওতে তাঁর মৃত্যুতে গিয়ে ঠেকে। মেসি নিজেই লিখেছেন, বাবাকে হারানোর পর সিদ্ধান্তটা নিয়ে তাঁর মন আরও দৃঢ় হয়ে গিয়েছিল।

কালো কালিতে বড় হাতের অক্ষরে, মাঝে মাঝে কাটাছেঁড়া আর সংশোধনের ছাপ রেখে তিন পাতায় লেখা এই চিঠির প্রথম অংশে ফুটে ওঠে সিদ্ধান্তের ভার আর ক্লান্তির কথা। দ্বিতীয় পাতায় দুই দশকের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা, তৃতীয় পাতায় আবেগঘন এক স্বীকারোক্তি—নিজেকে আর্জেন্টাইন হিসেবে পাওয়াটাকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি চোখ কেড়েছে সেই কলমটাই। এটি নেহাত কোনো সাধারণ কলম নয়—ইউনিভার্সাল স্টুডিওজে বিক্রি হওয়া হ্যারি পটার সিরিজের বিশেষ সংস্করণের একটি বলপয়েন্ট, যার গায়ে খোদাই করা ‘ডিপার্টমেন্ট অব মিস্ট্রিজ’ লেখা, আর ক্লিপে বসানো হার্মিওনি গ্রেঞ্জারের সেই বিখ্যাত টাইম-টার্নারের প্রতিরূপ।

যে বস্তু কল্পকাহিনিতে সময়ে পেছনে ফেরার ক্ষমতা রাখে, ঠিক সেই কলম দিয়েই মেসি লিখলেন এমন এক চিঠি, যেখানে ফিরে দেখা হলো জাতীয় দলের হয়ে একুশ বছরের পথচলা—আঠারো বছর বয়সে বুদাপেস্টে দুই মিনিটের অভিষেক থেকে শুরু করে ২০২২ বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত।

মাঠের বাইরে এই ছোট্ট কলমটুকু হয়তো নিছক কাকতালীয়, কিন্তু মেসির জীবনে কাকতালও যেন হয়ে ওঠে গল্পের অংশ। প্রশ্ন জাগে, সময়কে পেছনে ফেরানোর শক্তি যদি সত্যিই থাকত সেই কলমে, তাহলে কি মেসি একটিবারের জন্যও ফিরে যেতেন সেই ফাইনালের মুহূর্তে?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link