লর্ডস বিপর্যয়ের পর পিসিবির প্যানিক অ্যাকশন

দুই টেস্টে দুইবার ধরাশায়ী হওয়ার লজ্জা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হজম করল না চুপচাপ, বরং জবাব দিল রক্তক্ষরণের মতো এক অস্ত্রোপচার দিয়ে। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিপর্যয়ের পর লর্ডসে ১৯৪ রানের হার—চার ইনিংসের প্রতিটিতেই দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া এক ব্যাটিং লাইনআপের সামনে বোর্ড আর অপেক্ষা করেনি। সাত ক্রিকেটারকে পাঠানো হলো ঘরে, বিদায় নিলেন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও তাঁর সহকারী উমর গুলও।

লর্ডসের মাঠ ছাড়ার আগেই যেন ভেঙে পড়ল একটা দল। দুই টেস্টে দুইবার ধরাশায়ী হওয়ার লজ্জা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হজম করল না চুপচাপ, বরং জবাব দিল রক্তক্ষরণের মতো এক অস্ত্রোপচার দিয়ে। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিপর্যয়ের পর লর্ডসে ১৯৪ রানের হার—চার ইনিংসের প্রতিটিতেই দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়া এক ব্যাটিং লাইনআপের সামনে বোর্ড আর অপেক্ষা করেনি। সাত ক্রিকেটারকে পাঠানো হলো ঘরে, বিদায় নিলেন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও তাঁর সহকারী উমর গুলও।

মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম উল হক, সালমান আলি আগা, আলি উসমান আর খুররাম শাহজাদ—এই পাঁচজন সিরিজে খেলেছেন, তবু রক্ষা পাননি। আমির জামাল আর মুহাম্মদ আওয়াইস জাফরকে তো একটি বলও করার সুযোগ না দিয়েই ফেরত পাঠানো হলো। লর্ডসে দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যার্থতার জন্য সমালোচিত ইমাম উল হকের বিদায় যেন এই নাটকের সবচেয়ে করুণ দৃশ্য।  হেডিংলিতে বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব করা সালমানও রেহাই পাননি এই ঝড় থেকে।

শূন্যস্থান পূরণে এসেছেন সাত নতুন মুখ। সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলের টেস্ট অভিজ্ঞতা থাকলেও বাকি পাঁচজন—আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ,  ইমরান রান্ধাওয়া  ও রাজাউল্লাহ—নামবেন সাদা পোশাকে একেবারে অচেনা মঞ্চে। দলের হাল ধরতে সাদা বলের কোচ মাইক হেসন আর সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার অ্যাশলি নফকেকে ডেকে আনা হয়েছে, যেন ডুবন্ত জাহাজের হাল ধরতে আনা হলো নতুন কাণ্ডারি।

সাবেক অধিনায়ক ও পিসিবি চেয়ারম্যান রামিজ রাজা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে তিনি বলেন, এটি মেনে নেওয়া কঠিন এবং এটি পাকিস্তান ক্রিকেটে আতঙ্কের প্রতিফলন। তাঁর মতে, এতে দল হয়ে ওঠে স্বার্থপর, কারণ এর প্রভাব পড়ে নতুন ও পুরোনো—দুই পক্ষের ক্রিকেটারদের ওপরই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিয়ে ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা আসলে কোথায়।

৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট, যেখানে হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবে ভাঙাচোরা এক পাকিস্তান। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—মাঝপথে এমন আমূল পরিবর্তন কি সত্যিই সাহসী পুনর্গঠন, নাকি নিছক হতাশার প্রতিফলন?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link