সভাপতির ‘হট সিট’ যেন মিউজিক্যাল চেয়ার

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর সভাপতি পদটি যেন এখন সেই 'মিউজিক্যাল চেয়ার' খেলার চেয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিউজিক থামলেই বদলে যাচ্ছে চেয়ারের দখলদার, আর এই পালাবদলের খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর সভাপতি পদটি যেন এখন সেই ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলার চেয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিউজিক থামলেই বদলে যাচ্ছে চেয়ারের দখলদার, আর এই পালাবদলের খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা। গত ৫৯৪ দিনের ব্যবধানে বিসিবি দেখেছে তিনজন নতুন সভাপতিকে – যা দেশের ক্রিকেটের অস্থিরতাকেই নির্দেশ করছে।

পাঁচ আগস্ট সরকার পতনের পর কট্টর রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা এবং নিজেই সরকারি দলের প্রতিনিধি হওয়ায় দেশ ছাড়েন সাবেক বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেই থেকেই যেন বিসিবি বস হওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে একের পর এক অস্থিরতা।

২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে অস্থায়ী বোর্ড যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ভক্তদের মাঝে পরিবর্তনের এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সেই আশার স্থায়িত্ব ছিল নামমাত্র। এক বছরের মধ্যেই ফারুক আহমেদের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে বিলুপ্ত করে নির্বাচনের পথে অগ্রসর হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

সেই নির্বাচনকে ঘিরেই শুরু হয় নাটকীয়তা। নির্বাচনের প্রাকলগ্নে তামিম ইকবাল সরে আসলে এক প্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জয় লাভ করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

কিন্তু শুরু থেকেই সেই বোর্ডকে অবৈধ বলে এসেছে তামিম ইকবাল ও বর্তমান সরকারের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর একাংশ। সেই প্রেক্ষিতে এপ্রিল মাস এলেও, মাঠে গড়ায়নি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আসর।

সর্বশেষ সাত এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আবারও এলো রদবদল। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে ভেঙে দিয়ে অ্যাড হক কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। এই কমিটির নেতৃত্ব রয়েছেন সাবেক বাংলাদেশি অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিন মাসের মধ্যেই আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই যে ঘনঘন বিসিবি প্রধানের পরিবর্তন, তা ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পথে এক বিশাল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিবির এই সিংহাসন কি শুধুই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা ব্যক্তিগত ইমেজের লড়াইয়ের জায়গা? প্রশ্নটি এখন কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের।

ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা বন্ধ হওয়া জরুরি। বোর্ডকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত স্থিতিশীল রাখা না গেলে, দেশের ক্রিকেট কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাঠ হয়েই থাকবে, দিনশেষে পরাজয়টা হবে দেশের ক্রিকেটের।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link