ব্রাজিলের শো-পিস হচ্ছেন নেইমার?

এই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ইনজুরিমুক্ত অবস্থায় যখন ফিরবেন নেইমার, ঠিক কতটা গেম টাইম পাবেন সেলেসাওদের এই প্রাণভোমরা?

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই ব্রাজিল সমর্থকদের এক বুক উন্মাদনা। যেখানে আকর্ষণের প্রধান নাম হয়ে থাকেন নেইমার জুনিয়র। তবে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনে এই জাদুকরকে হয়তো চেনা রূপে দেখা যাবে না, বরং তিনি দলে থাকছেন অনেকটা এক দামি ‘শো পিস’ হিসেবে। ইনজুরির কালো মেঘ আর ট্যাকটিক্যাল বাস্তবতায় মাঠে তাঁর নামার সুযোগ এবার বড্ড সীমিত।

ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ব্রাজিল যখন নতুন স্বপ্ন বুনছে, তখনো নেইমারকে ঘিরে কাটছে না সংশয়ের কালো মেঘ। ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে নাটকীয়ভাবে জায়গা পেলেও, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ল্যাটিন এই তারকা আবারও পড়েছেন ইনজুরির নিষ্ঠুর থাবায়। ফলে, প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে তাঁর থাকা হচ্ছে না নিশ্চিতভাবেই।

কেবল প্রথম ম্যাচই নয়, ইনজুরির তীব্রতায় দলের দ্বিতীয় ম্যাচেও নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা ভীষণ ক্ষীণ। ভক্তদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন, এই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ইনজুরিমুক্ত অবস্থায় যখন ফিরবেন নেইমার, ঠিক কতটা গেম টাইম পাবেন সেলেসাওদের এই প্রাণভোমরা? মাঠের বাস্তবতা বলছে, অতীতের মতো এবার পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে তাঁর রাজত্ব দেখার আশা করা ভুল হবে।

আবেগ সরিয়ে রেখে যদি কঠিন বাস্তবতার দিকে তাকানো যায়, তবে দেখা যাবে নেইমার এখন আর শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট নন। একের পর এক শক্ত ইনজুরি কেড়ে নিয়েছে তাঁর শক্তিমত্তার অনেকটুকু। আনচেলোত্তির আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র হতে যাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া কিংবা কুনহাদের মতো তরুণ ও গতিময় তারকারা। হাই-ইনটেনসিটির এই আধুনিক ফুটবলে নেইমারের শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া তাই বড্ড কঠিন।

ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে ভিনিসিয়ুস আর নেইমারের মধ্যে দুজনকেই একসাথে প্রারম্ভিক একাদশে  রাখার ঝুঁকি হয়তো আনচেলোত্তি নেবেন না। কারণ, দুজনকে একসাথে মাঠে নামালে বাম প্রান্ত দুর্বল হয়ে গিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিলের গোল হজম করার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যাবে। আধুনিক ফুটবলের ভারসাম্য বজায় রাখতেই কার্লোকে নিতে হবে এই কঠোর ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত।

তাহলে এই বিশ্বকাপে নেইমারের ভূমিকা ঠিক কী হতে যাচ্ছে? ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য উত্তরটা কিছুটা বেদনার। নেইমারকে মূলত দেখা যাবে এক ‘সুপার সাব’ হিসেবে। ম্যাচের প্রায় ৭০ মিনিটের দিকে, যখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা ক্লান্ত হয়ে পড়বে, তখন হয়তো ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কার্লো মাঠে নামাবেন তাঁর এই অভিজ্ঞ জাদুকরকে।

হেক্সা জয়ের এই লড়াইয়ে তরুণ নেইমারের পায়ের জাদু দেখার সম্ভাবনা খুব বেশি হবে না দর্শকদের। গতি আর তারুণ্যের ভিড়ে হয়তো ডাগআউটেই বেশি কাটবে এই নায়কের সময়। তবে ওই শেষ ২০ মিনিটের জাদুতেও যে কোনো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এই জাদুকরের কাছে আছে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link