আগামীর ক্রিকেটের ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর

বৈভব সুরিয়াভানশি - এক ট্যাগে প্রকাশ করতে চাইলে সে যেন ক্রিকেটেরই ভবিষ্যৎ ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। নিজের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে সে তছনছ করে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সব চেনা ব্যাকরণ।

ইন্ডিয়ার প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এবারের আসর জুড়েই যেন ছিল সবে ১৫ বসন্ত অতিবাহিত করা এক কিশোরের রাজত্ব। বৈভব সুরিয়াভানশি – এক ট্যাগে প্রকাশ করতে চাইলে সে যেন ক্রিকেটেরই ভবিষ্যৎ ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। নিজের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে সে তছনছ করে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সব চেনা ব্যাকরণ।

বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়েছেন সুরিয়াভানশি। পাওয়ারপ্লেতে সে একাই করেছেন রেকর্ড ৫২১ রান। মাত্র ২২৩ বল খেলে পাওয়ারপ্লেতেই উড়িয়েছেন ৪৬টি ছক্কা। যা টুর্নামেন্টের গোটা পাঁচটি দলের সম্মিলিত পাওয়ারপ্লে ছক্কার চেয়েও বেশি!

জাসপ্রিত বুমরাহ, প্যাট কামিন্স কিংবা মিচেল স্টার্ক! বিশ্বসেরা সব বোলারদেরকেই এক প্রকার তুলোধুনো করেছেন তিনি। পেসারদের বিপক্ষে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ২৩৯.১১! আসরে মুখোমুখি হওয়া ৪৬ জন বোলারের মধ্যে ৩৪ জনকেই সে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেছে।

​২০১২ সালে গেইলের ৫৯টি ছক্কা এসেছিল প্রতি ৭.৭ বলে একটি। আর এবার সুরিয়াভানশি প্রতি ৪.৫ বলে একটি করে ছক্কা মেরে মোট ৭২টি ছক্কার নতুন ইতিহাস গড়েছেন। এক সিজনে তিনবার এক ইনিংসে দশ বা তার বেশি ছক্কা মারার অনন্য কীর্তিও এখন তাঁর ঝুলিতে।

এবারের আসরে তাঁর মোট সংগ্রহ ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান! যার মধ্যে ছিল সানরাইজার্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলের একটি বিধ্বংসী সেঞ্চুরি। এছাড়া আইপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ এবং বল খেলার দিক থেকে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে মাত্র ৪৪০ বলে সে পূর্ণ করেছে এক হাজার আইপিএল রান।

১৫ বছরের এক কিশোরের উইকেটে এসে এভাবে রাজত্ব করা কেবল কোনো পরিসংখ্যানের গল্প নয়, এটি ক্রিকেট বিধাতার এক অদ্ভুত খেয়াল। বুমরাহ-স্টার্কদের বিশ্বসেরা অহংকারকে যেভাবে সে অবলীলায় গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেছে, তা যেন কোনো এক রূপকথার অবিনাশী অধ্যায়।

মাত্র শুরু হলো তাঁর পথচলা। আর এই শুরুর প্রলয়ই যদি এমন চোখ ধাঁধানো হয়, তবে পূর্ণাঙ্গ ঝড়ের দিনে ক্রিকেট বিশ্ব কোন দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, তা ভাবলেও শরীর শিউরে ওঠে। বৈভব সুরিয়াভানশি নামের এই মহাকাব্যের তো কেবল প্রথম পরিচ্ছেদ শেষ হলো, আসল রূপকথা হয়তো এখনো অলিখিতই রয়ে গেছে!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link