২০ বছরের পরও বিশ্বমঞ্চে চার কিংবদন্তি

২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো এই চার কিংবদন্তির শেষ বড় মঞ্চ। কিন্তু তাদের উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করছে—ফুটবলে কিংবদন্তিরা সময়কে হার মানায় না, তারা সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসও হয়ে যান।

বিশ্ব ফুটবলে বিরল এক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। দুই দশক আগে ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে যারা প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই চারজন এখনও টিকে আছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে— ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, লুকা মদ্রিচ এবং গিলের্মো ওচোয়া।

২০০৬ বিশ্বকাপের সেই ৭৩৬ খেলোয়াড়ের মধ্যে এই চারজনই এখন ২০২৬ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন—যা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ সেই বিশ্বকাপেই অভিষেক ম্যাচ খেলেছিলেন আর ওচোয়া স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামেন ২০১৪ বিশ্বকাপে।

দুই দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় চারজনই নিজেদের ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের শীর্ষে। রোনালদো ক্লাব ফুটবলে স্পোর্টিং সিপি থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ হয়ে আল নাসরে খেলেছেন এবং জিতেছেন পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা।

ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতাদের একজন এবং পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী। তার সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা রয়ে গেছে বিশ্বকাপ ট্রফি।

মেসির যাত্রা বার্সেলোনায় শুরু হয়ে পিএসজি এবং বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে এসে থেমেছে বিশ্বসেরা পর্যায়ে। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তিনি পূর্ণতা পেয়েছেন, যেখানে তিনি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন। ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় সব অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন।

মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়াকে ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন এবং সেই বছরই ব্যালন ডি’অর জিতে মেসি-রোনালদো যুগ ভেঙে ইতিহাস গড়েছিলেন। ডায়নামো জাগরেব থেকে টটেনহ্যাম হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ার তার। ছয়টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য ট্রফি জিতলেও বিশ্বকাপ শিরোপা তার ক্যারিয়ারের বড় অপূর্ণতা।

অন্যদিকে অচোয়া মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপে একাধিকবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নিজেকে “বিশ্বকাপের নির্ভরযোগ্য দেয়াল” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও অভিষেক ঘটে ২০১৪ বিশ্বকাপে, সেখান থেকেই শুরু হয় তার বিশ্বকাপ নায়ক হয়ে ওঠার গল্প। ধীরস্থির ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে উঠেছেন দীর্ঘায়ুর প্রতীক।

২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো এই চার কিংবদন্তির শেষ বড় মঞ্চ। কিন্তু তাদের উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করছে—ফুটবলে কিংবদন্তিরা সময়কে হার মানায় না, তারা সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসও হয়ে যান।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link