বাংলাদেশে বিশ্বকাপের আমেজ ফিঁকে কেন?

পর্তুগাল কি অবশেষে অধরা স্বপ্ন ছুঁতে পারবে? ফ্রান্স কি পুনরুদ্ধার করবে হারানো মুকুট? ব্রাজিল কি জিতবে কাঙ্ক্ষিত হেক্সা? নাকি আর্জেন্টিনা যোগ করবে জার্সিতে আরও একটি তারকা?

একটা সময় ছিল, যখন বিশ্বকাপ আসার কয়েক মাস আগ থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে যেত ফুটবল উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের সরব উপস্থিতির পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিরও ছিল উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা। এশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে জাপানও পেত আলাদা সমর্থন। সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পর্তুগাল।

বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলত—কে সবার আগে ছাদে পতাকা ওড়াবে, কে আগে প্রিয় দলের জার্সি কিনবে। পাড়া-মহল্লা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গাতেই ফুটবল ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে সময়ের বিবর্তনে সেই দৃশ্যমান উন্মাদনা যেন কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ ৩৬ বছর বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায় ছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা অধরা থেকে যায়। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলে আলবিসেলেস্তেরা।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়, ২০২২ সালে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফিনালিসিমা শিরোপা এবং এরপর কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পরও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল মেসির দল। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে তারা।

অন্যদিকে, ২০০২ সালে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ব্রাজিলের সমর্থকেরা এখনও অপেক্ষা করছেন ‘হেক্সা’ মিশনের সফল পরিণতির জন্য। ২০০৬ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নেমেছে সেলেসাওরা, কিন্তু ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অধরা রয়ে গেছে ষষ্ঠ শিরোপা।

গত বিশ্বকাপের আগে একদিকে ছিল আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের অপেক্ষা, অন্যদিকে ব্রাজিলের ১৮ বছরের শিরোপা খরা। এই দুই দলের সমর্থকদের তর্ক-বিতর্কে মুখর থাকত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর পরিস্থিতি যেন কিছুটা বদলে গেছে।

অনেকের মতে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হওয়ায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তি কাজ করছে। ফলে আগের মতো উচ্চকণ্ঠ উন্মাদনা দেখা না গেলেও তারা অপেক্ষা করছেন নতুন বিশ্বকাপের জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা—এবার কি আর্জেন্টিনা আরও একটি বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি নতুন কোনো চ্যাম্পিয়নের দেখা মিলবে?

উত্তরটা সময়ই বলে দেবে। পর্তুগাল কি অবশেষে অধরা স্বপ্ন ছুঁতে পারবে? ফ্রান্স কি পুনরুদ্ধার করবে হারানো মুকুট? ব্রাজিল কি জিতবে কাঙ্ক্ষিত হেক্সা? নাকি আর্জেন্টিনা যোগ করবে জার্সিতে আরও একটি তারকা? বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, এসব প্রশ্নের উত্তরে বাড়বে উত্তেজনা। আর তখন হয়তো আবারও ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত হবে বাংলাদেশ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link