বিশ্বকাপ শেষ বাংলাদেশের মেয়েদের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলার গাণিতিক সুযোগ ছিল, কিন্তু, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারলো না বাংলাদেশ।

রূপকথার কোনো গল্প লিখতে পারলেন না বাংলাদেশের নারীরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলার গাণিতিক সুযোগ ছিল, কিন্তু, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারলো না বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি ঘটলো পরাজয়ের মুখ দেখে। 

টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি দুই ওপেনার। দুজনেই ফিরে যান এক অঙ্কের ঘরে। তখনই হাল ধরতে চেষ্টা করেন সোবহানা মোস্তারি। শারমিন আক্তারকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫৬ রান।

মোস্তারি ৪৮ বল খেলে করেন ৪২ রানের ইনিংস। অধিনায়ক নিগার সুলতানার ২০ বলে দ্রুত গতিতে আনা ৩২ রানের ইনিংসই বাংলাদেশকে এনে দেয় ১১৭ রানের সম্বল।

দক্ষিণ আফ্রিকা তাড়া করতে নামলে ইনিংসের প্রথম বলেই কাপ্তান লরা উলভার্টকে বোল্ড করে শুভসূচনা করেন মারুফা আক্তার। যদিও বাকি সময়টা আর নিজেদের জয়ের গল্প লেখার সুযোগ আসেনি টাইগ্রেসদের সামনে

অ্যানেরি ডার্কসেনের ৪৫ রানে ভর করে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভালো ফিল্ডিং আর বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও চার বল বাকি থাকতেই হারের মুখোমুখি হতে বাংলাদেশের নারীদের। 

দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশাল ব্যবধানে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে যাওয়ার হিসাবে থাকা যেত। কিন্তু, সেই দিন আর দেখা হলো বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো চার উইকেটের পরাজয়ে। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link