যে বয়সে এসে মানুষ বুট তুলে রেখে অবসর সময় কাটায়, সেই সময়ে লুকা মদ্রিচ এখনো মিডফিল্ড শাসন করে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপেও তিনি যেন ফুটবলের এক চিরসবুজ জাদুকর। তরুণদের এই গতিময় যুগে এসেও ৪০ বছর বয়সী এই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার যেভাবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজের পায়ে রাখছেন, তা এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়।
শৈশবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়ায় এক জনাকীর্ণ রিফিউজি ক্যাম্পে কেটেছে তাঁর দিনগুলো। বোমার শব্দ আর সাইরেনের আতঙ্ক যাঁকে দমাতে পারেনি, তাঁকে দমানো কি এত সহজ? সেই লড়াকু মানসিকতা নিয়েই ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে নিজের ছোট্ট দেশ ক্রোয়েশিয়াকে এনে দিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অবিশ্বাস্য সব সাফল্য।
উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম আর প্রতিকূল আবহাওয়ার ধকল যেখানে তরুণ ফুটবলারদের ক্লান্ত করে দিচ্ছে, সেখানে মদ্রিচ খেলছেন ক্লান্তিহীনভাবে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে নিখুঁত এক অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে নাম তুলেন রেকর্ডবুকে। সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার অনন্য কীর্তি এখন মদ্রিচের।

ক্লাব ফুটবলের অনেক তারকা মিডফিল্ডাররাই বিশ্বকাপের বিশাল চাপে নিজেদের হারিয়ে ফেলছেন, কোনো প্রভাবই বিস্তার করতে পারছেন না মাঠের খেলায়। কিন্তু লুকা মদ্রিচ সেখানে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম; তিনি প্রতি ম্যাচেই নিজের সেরাটা দিয়ে মুগ্ধ করে যাচ্ছেন সকল দর্শকদের।
বলা হয়ে থাকে, ক্রোয়েশিয়া ফুটবল দল তাদের সোনালী প্রজন্মকে পেছনে ফেলে এসেছে। দলের চেনা সারথিরা একে একে বিদায় নিলেও, এই ক্রোয়েশিয়ান ক্রুসেডার এখনো একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাঙা চোরা দল নিয়েও তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেন এক নিমেষে।
লুকা মদ্রিচ কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের এক অপরাজেয় রূপকথা। ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি কখনো, এবারও হয়তো বিদায় নিতে হবে খালি হাতেই, কিন্তু, মদ্রিচ সবসময়ই টিকে থাকবেন মিডফিল্ডে তাঁর শৈল্পিক উপস্থিতির জন্যে।











