রোনালদোর অতিরিক্ত খেলা কি পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বাধা?

বয়সকে বহুবার হার মানানো এই ফরোয়ার্ড এখনও অনন্য ফিটনেসের নজির গড়লেও শরীরের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

মায়ামির প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্রতার মধ্যে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের শেষ দিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন প্রতিটি পদক্ষেপই তাঁর জন্য বাড়তি পরিশ্রম। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির এমন ক্লান্ত চেহারা নতুন কিছু নয়। তবে ফুটবল বোদ্ধাদের প্রশ্নটা একটু ভিন্ন জায়গায়। বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে রোনালদোকে কি প্রতিটি মিনিট খেলানো সত্যিই পর্তুগালের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ?

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই পুরো সময় মাঠে ছিলেন রোনালদো। অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে তাঁর খেলার সময় গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ মিনিটে। বয়সকে বহুবার হার মানানো এই ফরোয়ার্ড এখনও অনন্য ফিটনেসের নজির গড়লেও শরীরের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শেষ ত্রিশ মিনিটে কলম্বিয়ার বিপক্ষে তিনি প্রায় আক্রমণভাগে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ম্যাচজুড়ে তাঁর প্রত্যাশিত গোল হার ছিল মাত্র ০.১৭, আর প্রত্যাশিত অ্যাসিস্ট হার ০.০৩। এটি তাঁর প্রভাবের সীমাবদ্ধতাই তুলে ধরে।

তবে, কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বলছেন ভিন্ন সুরে। তাঁর ভাষ্য, রোনালদো মানসিক ও শারীরিকভাবে এতটাই শৃঙ্খলাবদ্ধ যে ৯০ মিনিট খেলাও তাঁর জন্য সমস্যা নয়। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেছেন, পরের ম্যাচে কী হবে, তা আগে থেকে বলা যায় না।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে, দলে বিকল্পের অভাব নেই। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের তরুণ স্ট্রাইকার গনসালো রামোস বেঞ্চে বসে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যত ক্লান্ত রোনালদো মাঠ ছাড়েননি। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা।

এ দিকে বিশ্বকাপের অন্য পরাশক্তিগুলো ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। নরওয়ে তাদের নকআউট পর্বের কথা ভেবে আরলিং হাল্যান্ডকে বিশ্রাম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০টা পরিবর্তন এনেছিল। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লিওনেল মেসিকে শুরু থেকেই মাঠে নামাননি নকআউটের কঠিন লড়াইয়ে সেরা অস্ত্রকে সতেজ রাখতে।

কিন্তু পর্তুগালের ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। পর্তুগিজ ডাগআউটের বিশ্বাস উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা রোনালদো এখনও ম্যাচের মোড় ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন। তবে প্রতিটি ম্যাচে পূর্ণ সময় খেলালে সেই ধার সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে ভোঁতা হয়ে যেতে পারে সেটি হয়তো ভাবছেন না তাঁরা। 

কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছে পর্তুগাল। এখন শেষ ষোলোয় উঠতে হলে প্রথমে ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে হবে, এরপর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গতিশীলতা ও শারীরিক সতেজতা হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link