হাল সিটির বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ হারার পর ব্রুনো ফার্নান্দেজের হ্যাটট্রিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথম ম্যাচে অতিরিক্ত পজেশন ধরে রেখেও গোলের মুখ দেখেনি ইউনাইটেড। তাই ইপ্সউইচ টাউনের বিপক্ষে ইউনাইটেড পজেশনভিত্তিক ধীরগতির ফুটবল থেকে সরে এসে ডাইরেক্ট ও এগ্রেসিভ ট্রানজিশন নির্ভর ফুটবল খেলেছে।
ম্যাচের শুরুতে ইউনাইটেড হাই লাইন ডিফেন্স বজায় রাখতে গিয়ে ট্রান্সফার পেসের শিকার হয়ে প্রথম গোল হজম করে। তবে গোল খাওয়ার পর ক্যারিক বিল্ড আপ গেমের চেয়ে কাউন্টার প্রেসিংয়ে বেশি জোর দেন। কোবি মাইনুকে উইনিং অ্যাঙ্কর হিসেবে ব্যবহার করে মিডফিল্ডে সেকেন্ড বলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় ম্যান ইউ। এর ফলে ইপ্সউইচ ব্যাকলাইন থেকে সামনে বল বাড়াতে গিয়ে অনবরত পজেশন হারায়।
সবচেয়ে বড় ট্যাকটিকাল পরিবর্তনটি ছিল ব্রুনো ফার্নান্দেজের পজিশনিং। আগের ম্যাচে মাঝমাঠে নিচে নেমে খেলা ব্রুনোকে এই ম্যাচে ক্যারিক পিচের ওপরে অ্যাটাকিং ফ্রি রোল দেন। এর ফলে ইপ্সউইচের সেন্টার ব্যাক এবং সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের মধ্যবর্তী যে হাফ স্পেস তৈরি হয়েছিল, ব্রুনো বারবার সেখানে ঢুকে ফাইনাল থার্ডে গোল করার সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর হ্যাট্রিকটি ছিল মূলত পজিশনিং সেন্স ও প্রতিপক্ষের স্পেস চেনার সেরা উদাহরণ।

পাশাপাশি উইং প্লেতে ক্যারিক চতুরতার পরিচয় দেন। ডান ও বাম উইং এ মারকাস র্যাশফোর্ড এবং ব্রায়ান এমবেউমোর উপস্থিতিতে ইউনাইটেড পিচের পুরো প্রস্থ ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। এতে ইপ্সউইচের ফুলব্যাকরা ওপরের দিকে ওঠার সুযোগ পায়নি এবং তাদের ব্যাকলাইন রক্ষণে বাধ্য হয়।
উইংয়ের এই টানা প্রেসের মুখেই ইপ্সউইচ আত্মঘাতী গোল করতে বাধ্য হয় এবং ম্যান ইউর আক্রমণভাগের শেষ গোলটি আসে টার্ন ওভারের পর দ্রুতগতির ট্রানজিশন থেকে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাটিতে প্রথম ম্যাচে ৫-২ ব্যবধানের এই জয় তাদেরকে গগনচুম্বী আত্মবিশ্বাস দিবে।
শেষের দিকে একটা ডিফেন্সিভ ভুলে গোল হজম করাটা ক্যারিকের ব্যাকলাইনের সমন্বয়হীনতা নির্দেশ করে ঠিকই। তবে পজেশন ধরে রাখার গোলকধাঁধা থেকে বের হয়ে সোজা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরে আসাটাই ছিল ইউনাইটেডের জয়ের মূল চাবিকাঠি।












