বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রশ্নবিদ্ধ পাঁচ ভিএআর সিদ্ধান্ত

কোথাও মিলিমিটারের অফসাইড, কোথাও সম্ভাব্য পেনাল্টি না পাওয়া, আবার কোথাও বিতর্কিত ফাউলের পর গোল বৈধ ঘোষণার মতো প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তগুলো কয়েকটি দলের ভাগ্যই যেন বদলে দিয়েছে। 

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হতে না হতেই মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ওরফে ভিএআর। কোথাও মিলিমিটারের অফসাইড, কোথাও সম্ভাব্য পেনাল্টি না পাওয়া, আবার কোথাও বিতর্কিত ফাউলের পর গোল বৈধ ঘোষণার মতো প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তগুলো কয়েকটি দলের ভাগ্যই যেন বদলে দিয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি এসেছে ইরানের ম্যাচে। মিশরের বিপক্ষে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি ডিফেন্ডার শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠিয়ে ইরানকে প্রথমবারের মতো নকআউটে তোলার স্বপ্ন দেখান।

কিন্তু সিয়াটল স্টেডিয়ামে উৎসব শুরু হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় খলিলজাদেহ মাত্র মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন। মুহূর্তেই উল্লাস রূপ নেয় হতাশায়।

কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচেও একই রকম সূক্ষ্ম অফসাইড বিতর্কের জন্ম হয়। মায়ামির রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে যোগ করা সময়ে কলম্বিয়ার হুয়ান কুইন্তেরোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন দাভিনসন সানচেজ। কিন্তু সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললে রিপ্লেতে দেখা যায়, মাত্র পায়ের আঙুলের ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন সানচেজ। ফলে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখার সুযোগ হাতছাড়া হয় কলম্বিয়ার।

এদিকে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেও আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়ে ঘানা। কেননা ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর প্রিন্স কোয়াবেনা আদুকে ট্যাকল করতে গিয়ে ইংলিশ ডিফেন্ডার এজরি কনসা বল স্পর্শ না করেই হাঁটুতে আঘাত করলেও রেফারি পেনাল্টি তো দেনইনি, ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি। ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ ঘানা কোচ কার্লোস কুইরোজ কৌতুক করেই বলেন, “মনে হয় ভিএআর তখন কফি খেতে গিয়েছিল।”

ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচেও প্রশ্নের জন্ম দেয় ভিএআর। জ্যাক হেনড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়র দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করলেও অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পর সেটি বাতিল হয়।

রেফারির মতে, বল দখলের আগে ভিনিসিয়াস হেনড্রিকে ফাউল করেছিলেন। যদিও রিপ্লেতে সংস্পর্শটি খুবই সামান্য বলে মনে হয়। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ফিফার কাছে ভিএআর প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানায়।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে জার্মানির লেরয় সানের গোলও বিতর্ক এড়াতে পারেনি। ম্যাচের শুরুতেই গোল হওয়ার আগে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের উঁচু বুট ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতের মাথায় লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা ফাউলের দাবি জানালেও রেফারি কিংবা ভিএআর কেউই হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে গোলটি বহাল থাকে।

সাম্প্রতিক কালে প্রযুক্তি ফুটবলে নির্ভুলতা আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব দেখিয়ে দিল, নিয়মের নিখুঁত প্রয়োগও সব সময় বিতর্ক থামাতে পারে না। বরং অনেক সময় মিলিমিটারের ব্যবধান কিংবা ব্যাখ্যার ভিন্নতাই হয়ে উঠতে পারে একটি দলের স্বপ্নভঙ্গের সবচেয়ে বড় কারণ।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link