২০১৮ সালের বিশ্বকাপ। শেষ ষোলোতে জাপানের বিপক্ষে ৭০ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তখন মনে হয়েছিল, শেষ হয়ে গেছে রেড ডেভিলসদের বিশ্বকাপ। কিন্তু এরপরই ফুটবল দেখেছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন। আট বছর পর, বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও যেন ফিরে এল সেই পুরোনো গল্প। প্রতিপক্ষ বদলেছে, বদলেছে মাঠ, বদলেছে নায়কও। কিন্তু বেলজিয়ামের হার না মানা মানসিকতা? সেটা একটুও বদলায়নি।
মাত্র তিন মিনিট। এই তিন মিনিটই বদলে দিল একটি প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচের গল্প। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ২-০। বেলজিয়াম তখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে সেনেগালের সমর্থকেরা জয় উদযাপনের অপেক্ষায়। কিন্তু ফুটবল কখনোই সময়ের আগে কোনো গল্পের শেষ লিখতে দেয় না।
৮৫ মিনিট পর্যন্ত স্কোরকার্ডে আধিপত্য দেখিয়েছে সেনেগাল। দুই গোলে এগিয়ে তখনও তারা। নির্ধারিত সময়ের আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। কে জানত, এই সময়েই বেলজিয়াম মরণকামড় দিয়ে বসবে।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে প্রথম আলোটা দেখান রোমেলু লুকাকু। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জড়িয়ে দেন জালে। ২–১। সেই এক গোল যেন মুহূর্তেই বদলে দেয় পুরো বেলজিয়াম দলকে। কয়েক মিনিট আগেও যাদের শরীরে হতাশা ছিল, তারা হঠাৎ করেই বিশ্বাস করতে শুরু করে ফেরা সম্ভব।
সেনেগালও তখন চাপে। একের পর এক আক্রমণে কাঁপতে থাকে তাদের রক্ষণ। আর সেই চাপের চূড়ান্ত ফল আসে ৮৯ মিনিটে। ক্রস থেকে আসা বল দুর্দান্ত এক হেডে জাল কাঁপান ইউরি তিলেমান্স। গোলকিপারের কোনো সুযোগই ছিল না।
মাত্র তিন মিনিটে দুই গোল। ৮৬ থেকে ৮৯, এই তিন মিনিটেই বেলজিয়াম লিখে ফেলে বিশ্বকাপের আরেকটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। যে দলটি কয়েক মুহূর্ত আগেও নিশ্চিত পরাজয়ের অপেক্ষায় ছিল, তারাই শেষ মুহূর্তে ২–২ সমতা ফিরিয়ে আনে।

কিন্তু বেলজিয়ামের গল্প তখনও শেষ হয়নি। অতিরিক্ত সময়েও তারা আক্রমণ থামায়নি। শেষ পর্যন্ত ভিএআরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেই স্পট কিক থেকে ইউরি তিলেমান্স গোল করে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেলজিয়ামকে। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় উল্লাস, আর বিশ্বকাপে আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকে ফুটবল বিশ্ব।
২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে ছিল শেষ মুহূর্তের ঐতিহাসিক কাউন্টার অ্যাটাক। ২০২৬ সালে সেনেগালের বিপক্ষে ছিল মাত্র তিন মিনিটে দুই গোল, তারপর অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টির আঘাত। গল্পের ধরন আলাদা, কিন্তু শেষটা একই, বেলজিয়ামকে কখনোই সময় শেষ হওয়ার আগে হারিয়ে দেওয়া যায় না।










