ভিনিসিয়াস নেতা হতে পারেননি!

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মেইন ম্যান কে ছিল? এক কথায় উত্তর আসবে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে আসলেই কি তিনি দলের প্রধান? এবারের উত্তরটা আসবে, না। তিনি প্রধান পারফর্মার হলেও দলের প্রধান হতে পারেননি।

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মেইন ম্যান কে ছিল? এক কথায় উত্তর আসবে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে আসলেই কি তিনি দলের প্রধান? এবারের উত্তরটা আসবে, না। তিনি প্রধান পারফর্মার হলেও দলের প্রধান হতে পারেননি।

নেইমার-পরবর্তী যুগে ব্রাজিলের যোগ্য কাণ্ডারি ভিনিসিয়াস। তবে ক্লাব পর্যায়ে আলো ছড়ালেও মলিন হয়ে যান শুধু হলুদ জার্সি গায়ে চাপালে। এতদিন ধরে চলা সেই আক্ষেপ অবশেষে ঘুচিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের হয়ে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চালিয়েছেন। প্রতি ম্যাচেই গোল করেছেন।

ভিনিসিয়াসের পারফরম্যান্সও তাই মেইন ম্যানের মতো। ব্রাজিলের জার্সিতে আগের থেকে ১০ গুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরেছেন। কোনো কিছু নিয়ে দ্রুত রিঅ্যাক্ট করতেন, আগে এটা নিয়ে খুব সমালোচনাও হতো। তবে সেটাও ঠিক করেছেন। যে জিনিস পারেননি, তা হলো মাঠের খেলায় মেইন ম্যান হতে।

এই যে দলের হয়ে সেরা পারফর্ম করলেন। অথচ ১৪ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল অন্য কেউ। প্রথমে মার্টিনেল্লি নিতে চাইল, পরে  ব্রুনো গুইমারেস নিল। ফলাফল গোল মিস। আদতে দুজনের কেউই পেনাল্টিতে ভিনির চেয়ে বেশি কার্যকর নন। তার ওপর হট ফর্মে আছেন ভিনি। এই জায়গায় যদি নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ড থাকতেন কিংবা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, তবে কি কেউ বল নেওয়ার সাহস পেত?

তবে ভিনিসিয়াসের কাছ থেকে পেনাল্টি নেওয়ার সাহস ওরা দেখিয়েছে, কারণ তিনি দলের মেইন ম্যান নন। নেইমার দুই মিনিট মাঠে থেকে দুটো বল পাস দিলেই মাঠে গর্জন ওঠে। তবে ভিনিসিয়াস ৭০ মিনিট প্রতিপক্ষের রক্ষণে তাণ্ডব চালালেও সেটা আদায় করতে পারেন না। কারণ তিনি মেইন ম্যান নন।

ক্লাবে গেলেও একই দশা। এমবাপ্পের ছায়াতলে পড়ে আছেন। সব আলো এমবাপ্পের, উচ্ছিষ্টটুকু ভিনির। অথচ সামর্থ্য তার অতুলনীয়। ভিনির এই আচরণটাই এখন বদলাতে হবে। দলের মেইন ম্যান হতে হবে। নেতার আচরণ ধারণ করতে হবে। মাঠে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এসব করতে গেলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে ক্লাব ফুটবলে ছায়াতলে না থেকে অগ্রভাগে আসা। অর্থাৎ রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় বলা। ওটাই ভিনিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে দিচ্ছে না।

ব্রাজিলের বিদায় ঘটেছে। ব্যর্থতার ষোলকলাও পূর্ণ। এবার সেই ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়াতে হবে ব্রাজিলকে। আর যাকে কেন্দ্র করে সেলেসাওরা নতুন স্বপ্ন দেখবে, সেই ভিনিসিয়াসকে হয়ে উঠতে হবে মাঠের ভেতরের নেতা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link