ইনজুরি থেকে ফিরেই মেরিনোর বাজিমাত

চার মাস আগেও বিশ্বকাপ খেলাই অনিশ্চিত মিকেল মেরিনোর। চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, স্বপ্নটা বুঝি ছোঁয়া হবে না তার। আলোচনায় না থেকে, কোনো নাটকীয় ঘোষণা ছাড়াই শুরু হয়েছিল মিকেল মেরিনোর নীরব লড়াই।

চার মাস আগেও মিকেল মেরিনোর বিশ্বকাপ খেলা ছিল বড় এক অনিশ্চয়তা। গুরুতর চোটে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো বিশ্বমঞ্চের স্বপ্নটাই ভেঙে যাবে তার। কিন্তু আলোচনার বাইরে, নীরবে চলছিল মেরিনোর ফিরে আসার লড়াই।

সেই লড়াইয়ের পুরস্কার মিলল বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে।

পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। আর নিজের প্রভাব দেখাতে সময় নেন মাত্র ছয় মিনিট। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় বল জড়িয়ে দেন জালে। সেই এক গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় স্পেন।

তবে এটি শুধুই একটি জয়সূচক গোল নয়। এই গোল যেন চার মাসের অপেক্ষা, পুনর্বাসন আর কঠিন সময়ের বিরুদ্ধে মেরিনোর ব্যক্তিগত জয়েরও প্রতীক। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে আসা, ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করা এবং ঠিক প্রয়োজনের মুহূর্তে দলের ভরসা হয়ে ওঠা—সবকিছুরই নিখুঁত প্রতিফলন দেখা গেছে এই মুহূর্তে।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১৪১ মিনিট খেলেছেন মেরিনো। কিন্তু অবদান যে সবসময় মিনিট দিয়ে মাপা যায় না, সেটাই আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। সীমিত সময়ে একটি গোল, মাত্র আটটি বল স্পর্শ, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফাউল আদায় এবং একটি বল রিকভারি—পরিসংখ্যানও তার কার্যকারিতার সাক্ষী।

ফুটবলে সব নায়ক শুরু থেকেই আলোয় থাকেন না। কেউ কেউ অপেক্ষা করেন সঠিক মুহূর্তের জন্য। মিকেল মেরিনোও তেমনই একজন। ইনজুরির অন্ধকার পেরিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে এসে তিনি মনে করিয়ে দিলেন—একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link