রয় কিনের একটি ট্যাকল শেষ করে দিয়েছিল আলফ-ইঙ্গে হাল্যান্ডের ফুটবল ক্যারিয়ার। প্রায় ২৫ বছর পর সেই আলফ-ইঙ্গের ছেলে আর্লিং হাল্যান্ড বারবার গোল করে, ট্রফি জিতে আর রেকর্ড ভেঙে যেন বাবার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করে চলেছেন। ফুটবল ইতিহাসে রয় কিন ও হাল্যান্ড পরিবারের এই গল্প তাই শুধু বিতর্কিত ট্যাকলের নয়, অসমাপ্ত অধ্যায়ের পূর্ণতার গল্পও।
নব্বইয়ের দশকে আলফ-ইঙ্গে হাল্যান্ড ছিলেন এক লড়াকু মিডফিল্ডার। নটিংহ্যাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। নরওয়ে জাতীয় দলের হয়েও ছিলেন নির্ভরযোগ্য মুখ।
তবে ১৯৯৭ সালে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতে নেমে রয় কিনের সঙ্গে একটি সংঘর্ষ বদলে দেয় সবকিছু। সেই ম্যাচে হাঁটুর চোটে কাতর হয়ে মাঠে পড়ে যান কিন। আলফ-ইঙ্গে তখন ভেবেছিলেন, প্রতিপক্ষ সময় নষ্ট করতে অভিনয় করছেন। ঘটনাটি সেদিনই শেষ হয়নি; বরং রয় কিনের মনে জন্ম দিয়েছিল প্রতিশোধের আগুন।

চার বছর পর, ২০০১ সালের ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সেই আগুনেরই বিস্ফোরণ ঘটে। বলের জন্য নয়, সরাসরি আলফ–ইঙ্গে হাল্যান্ডের হাঁটু লক্ষ্য করে ভয়ংকর ট্যাকল করেন রয় কিন। সঙ্গে সঙ্গে লাল কার্ড দেখেন তিনি। পরে নিজের আত্মজীবনীতেও স্বীকার করেন, ট্যাকলটি ছিল ইচ্ছাকৃত।
এরপর আর কখনো আগের মতো মাঠে ফিরতে পারেননি আলফ–ইঙ্গে। চোটের ধাক্কা সামলে ওঠা হয়নি, মাত্র ৩০ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায় তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ার। অনেকের কাছেই সেদিন গল্পটা শেষ হয়েছিল।
কিন্তু সময় তখন লিখছিল অন্য এক গল্প। বাবার ক্যারিয়ার যখন থেমে যায়, আর্লিং হাল্যান্ডের বয়স মাত্র তিন বছর। দুই দশক পর ভাগ্য যেন নিজেই বেছে নেয় সবচেয়ে নাটকীয় মঞ্চ। বাবার সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতেই যোগ দেন আর্লিং। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রথম ডার্বিতেই হ্যাটট্রিক, একের পর এক গোল, প্রথম মৌসুমেই ট্রেবল, হাল্যান্ড যেন প্রতিটি সাফল্যের মাধ্যমে নতুন করে লিখেছেন ইতিহাস।

শুধু ক্লাব ফুটবলেই নয়, জাতীয় দলের জার্সিতেও থামছেন না এই গোলমেশিন। চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করেছেন। প্রতিটি ম্যাচে যেন আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, তিনি এই প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর গোলস্কোরারদের একজন।










