এসেছিলেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে।কিন্তু বিদায় নিলেন একগুচ্ছ প্রশ্ন রেখে।
শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হারের পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। আর সেই বিদায়ের পর কোচ রবার্তো মার্টিনেজও জানিয়ে দিয়েছেন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। এখন প্রশ্ন উঠছে—এই পদত্যাগ কি শুধুই ব্যর্থতার দায় নেওয়া, নাকি নিজের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তিও?
২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্টিনেজের হাতে ছিল অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের দারুণ সমন্বয়ে গড়া একটি শক্তিশালী দল। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল একটি সিদ্ধান্ত—৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই টানা ৯০ মিনিট খেলানো।

বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ও উচ্চগতির আসরে বয়স ও ফিটনেসের বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে একই পরিকল্পনায় অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয় সমালোচনা। কারণ আধুনিক ফুটবলে শুধু তারকার ওপর নির্ভরতা নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক খেলোয়াড়কে ব্যবহার করার দক্ষতা।
গনসালো রামোসের মতো তরুণ স্ট্রাইকার কিংবা আক্রমণভাগের অন্য বিকল্পদের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে মার্টিনেজের কৌশল নিয়েও। অনেকের মতে, প্রতিভাবান একটি স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও দলকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি এই স্প্যানিশ কোচ।
শুধু মাঠের সিদ্ধান্ত নয়, পর্তুগালের প্রস্তুতি নিয়েও ছিল প্রশ্ন। বিশ্বকাপের আগে ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকার শীর্ষ শক্তিগুলোর বিপক্ষে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি দলটি। ফলে নিজেদের দুর্বলতাগুলো অনেকটাই আড়ালে ছিল।

কিন্তু নকআউট পর্বে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে সেই সীমাবদ্ধতাই স্পষ্ট হয়ে যায়। পুরো ম্যাচে লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলাতে পারেনি পর্তুগাল।
রবার্তো মার্টিনেজের বিদায় শুধু একজন কোচের অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং পর্তুগালের জন্য নতুন করে ভাবার সময়ও। কারণ বড় মঞ্চে শুধু একজন কিংবদন্তির ওপর নির্ভর করে নয়, বরং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত আর দলীয় পারফরম্যান্স দিয়েই সফল হতে হয়।
আর সেই পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়েই বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটেছে পর্তুগালের।
বিদায় নিয়েছেন মার্টিনেজও।










