গোলবারের নিচে একজন মানুষ যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, যাকে ভাঙতে পারেনি কেউ। পুরো একটা বিশ্বকাপ পার হয়ে যাচ্ছে, অথচ স্পেনের জালে বল জড়াতে পারেননি কোনো প্রতিপক্ষ। পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা স্পেনের এই কীর্তির নায়ক গোলরক্ষক উনাই সিমন, অথচ তাকে নিয়ে আলোচনা যেন হয়ই না।
শেষ ষোলোর ম্যাচেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের ফাঁকি দিতে দেননি সিমন। এই নিয়ে ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬০৯ মিনিট গোল হজম করলেন না তিনি, ভেঙে দিলেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার ৩৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত খেলা পাঁচ ম্যাচের পাঁচটাতেই ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি।
কিন্তু এই জায়গায় সিমনের আসারই কথা ছিল না। ২০১৮ সালে মৌসুম শুরুর আগে অ্যাথলেটিক বিলবাও তাকে ধারে পাঠিয়ে দেয় এলচেতে। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সব পাল্টে যায়—ক্লাবের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক কেপা আরিসাবালাগা হুট করে চেলসিতে পাড়ি জমান, সঙ্গে যোগ হয় বিকল্প গোলরক্ষকের চোট। জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠানো হয় সিমনকে। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই লেগানেসের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার, আর সেই থেকে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের গোলবার তারই দখলে।

জীবনটা এমনই। কখন কোন দরজা খুলে যায়, বলা মুশকিল।
মাঠের বাইরে সিমন থাকেন লোকচক্ষুর আড়ালে। সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সরব নন, নিজের পরিবার আর ব্যক্তিগত জীবনও রাখেন প্রচারের আলো থেকে দূরে। তার কাছে জীবনটা শুধু দুটো জিনিস দিয়েই গড়া—পরিবার আর ফুটবল।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ এখন বেলজিয়াম। সিমনের রেকর্ড আরও লম্বা হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।












