বিশ্বকাপের অনন্য সুপার-সাব লুকাকু

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বদলি খেলোয়াড় মানেই শেষ মুহূর্তের যোদ্ধা। কিন্তু রোমেলু লুকাকু বদলি নামাকেই যেন বানিয়েছেন ইতিহাসের সিংহ দরজা। মাঠে পা রাখতে তাঁর দেরি হলেও গোল করতে হয় না বিলম্ব।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বদলি খেলোয়াড় মানেই শেষ মুহূর্তের যোদ্ধা। কিন্তু রোমেলু লুকাকু বদলি নামাকেই যেন বানিয়েছেন ইতিহাসের সিংহ দরজা। মাঠে পা রাখতে তাঁর দেরি হলেও গোল করতে হয় না বিলম্ব। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এবার এমন এক কীর্তিই গড়েছেন এই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।

শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বেলজিয়ামের ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ের ম্যাচে শেষ বাঁশির আগমুহূর্তে বদলি হিসেবে নামেন লুকাকু। পরে যোগ করা সময়ে গোল করে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন ম্যাচে সাবস্টিটিউট হয়ে গোল করার নজির গড়েন তিনি।

বিশ্বকাপে নিজের শেষ তিন ম্যাচেই তিনি মাত্র একটি করে শট নিয়েছেন। আর সেই একমাত্র শটগুলো থেকেই এসেছে তিনটি গোল। কার্যকারিতার এমন নিখুঁত উদাহরণ আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব কমই দেখা যায়। এ যেন অনন্য এক চিত্রনাট্য, যার দৃশ্যের সঙ্গে মিল নেই কিছুরই।

মার্কিনীদের বিপক্ষে গোলটি ছিল লুকাকুর ব্যক্তিগত আরেকটি মাইলফলকও। এটি ছিল বেলজিয়ামের জার্সিতে তাঁর ৯৩তম আন্তর্জাতিক গোল। যা তাঁকে দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে।

এদিকে এই জয়ে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকা বেলজিয়াম উঠলো কোয়ার্টার-ফাইনাল। সামনে অপেক্ষা করছে স্পেনের কঠিন পরীক্ষা। তবে তার আগেই বিশ্বকাপের পাতায় অমর হয়ে গেল লুকাকুর আরেকটি অমলিন স্বাক্ষর।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link