এখনও কি আমরা সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে?
২০০৬ সালের ২ আগস্ট। এই হারারে স্পোর্টস ক্লাবেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ইতিহাস গড়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিক এসেছিল সেদিন। তবুও ম্যাচ জেতা হয়নি। শেষ দিকে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল বাংলাদেশের। প্রায় দুই দশক পর একই মাঠে যেন আবারও ফিরে এল সেই পুরোনো গল্প।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ২৪৭ রানে আটকে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতে তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ৩২ রানে ৩ উইকেট হারাতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে বেন কারেনের অপরাজিত ১১১ এবং শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্সের ৩৮ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে জিম্বাবুয়ে লড়াই করার মতো ২৪৭ রান তোলে। শেষ ১০ ওভারে ৮৫ রান তুলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। বিশেষ করে শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের ২২ রান খরচ বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশও একসময় ছিল জয়ের পথেই। তানজিদ হাসান তামিম খেলেছেন ৭০ বলে ৫৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। তাওহীদ হৃদয় করেছেন ৯০ বলে ৬০ রান। উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানও যোগ করেন ৪১ বলে ৩৮ রান। তিনজনের ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
কিন্তু এখানেই ধরা পড়ে বাংলাদেশের পুরোনো দুর্বলতা।
ভালো শুরু পাওয়ার পরও সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি ব্যাটাররা। তানজিদ, হৃদয়, সোহান—কেউ শেষ পর্যন্ত থেকে ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন। মাঝের ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে আসে মাত্র ৫৪ রান। ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে ১৩ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

ক্রিকেটে পরিসংখ্যান অনেক কিছু বলে, তবে কিছু হার একই সঙ্গে মানসিকতারও প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ২০০৬ সালে শাহাদাতের হ্যাটট্রিকও বাংলাদেশকে জেতাতে পারেনি। ২০২৬ সালে তানজিদের ফিফটি, হৃদয়ের ফিফটি, সোহানের কার্যকর ইনিংস কিংবা মিরাজের অলরাউন্ড অবদানও জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না।
হারারের মাঠ বদলায়নি, বদলায়নি বাংলাদেশের এক পুরোনো সমস্যাও। ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করার যে মানসিক দৃঢ়তা বড় দলগুলো দেখায়, সেই জায়গাতেই এখনও পিছিয়ে বাংলাদেশ। আর সেই কারণেই জেতা উচিত ছিল যে ম্যাচ, সেটিই আবারও হারতে হলো টাইগারদের।











