ব্যাটারদের গড় বাড়াতে এসজি বলে ফেরার ভাবনা

পেসারদের উন্নতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবশেষে আরেকটি কৌতূহল জাগানো তথ্যও আছে। ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং ঘরের মাঠের টেস্ট, দুই জায়গাতেই ডিউক বল ব্যবহার করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আসছে বড় পরিবর্তন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডিউক বল বাদ দিয়ে এসজি বল ব্যবহারের পথে হাঁটতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলেই আছে। বৃহস্পতিবার বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির তরফ থেকে জানা গেছে, বিষয়টি এখন প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলোচনাটা যে গুরুত্বের সঙ্গেই হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে।

আগামী অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজকে সামনে রেখেই কি এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিউক বল নিয়ে বিসিবির ভেতরেও মতের অমিল আছে।

এই বলের যেমন কিছু বাড়তি সুবিধা আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাই ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট অনেকেই ডিউক বল থেকে সরে আসতে চান। বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের মধ্যেও এমন মত রয়েছে।

মজার বিষয় হলো, চার বছর আগেও দৃশ্যপট ছিল ঠিক উল্টো। ২০২২-২৩ মৌসুমের আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগে এসজি বলের পরিবর্তে ডিউক বল চালু করেছিল বিসিবি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, বিদেশের কঠিন কন্ডিশনের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা।

বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বারবার সুইং আর সিমের বিপক্ষে ব্যাটারদের দুর্বলতা চোখে পড়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ডিউক বলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর হাতে সেলাই করা উঁচু সিম এবং দীর্ঘ সময় ধরে সুইং ধরে রাখার ক্ষমতা।

বলটি অনেকক্ষণ শক্ত থাকে, সিমও সহজে নষ্ট হয় না। ফলে পেসাররা অনেক বেশি সময় সুইং ও সিম মুভমেন্ট পান। একই সঙ্গে ব্যাটারদের জন্য রান করা হয়ে ওঠে অনেক কঠিন। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের কিউরেটররাও আগের মতো স্পিন সহায়ক উইকেটের বদলে আরও সবুজ ও পেস সহায়ক উইকেট তৈরি করতে শুরু করেন।

এই পরীক্ষার ফলও ছিল মিশ্র। একদিকে ব্যাটারদের গড় নাটকীয়ভাবে কমে যায়, বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেতে থাকেন। অন্যদিকে দেশের পেসাররা সবচেয়ে বেশি লাভবান হন। গত চার মৌসুমে একের পর এক তরুণ ফাস্ট বোলারের উত্থান হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে দলের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি বলার পেছনে ডিউক বলের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এ কারণেই হঠাৎ করে আবার এসজি বলে ফেরার আলোচনা অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ডিউক বল ব্যবহার করে যে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা হয়েছিল, বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটি মনে করছে সেই পরীক্ষার বড় অংশ সফল হয়েছে। এখন হয়তো ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুন ধাপে নেওয়ার সময় এসেছে বলেই তারা ভাবছে।

তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। চার বছরে তৈরি হওয়া এই পেস সংস্কৃতি কি আবার ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে? ডিউক বলের কঠিন পরীক্ষায় ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে, কিন্তু সেই দুর্বলতা দূর হওয়ার আগেই যদি আবার তুলনামূলক সহজ পরিবেশে ফিরে যাওয়া হয়, তাহলে পুরোনো সমস্যাগুলো কি আবার মাথাচাড়া দেবে না?

পেসারদের উন্নতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবশেষে আরেকটি কৌতূহল জাগানো তথ্যও আছে। ২০১৮ সাল থেকে নিজেদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং ঘরের মাঠের টেস্ট, দুই জায়গাতেই ডিউক বল ব্যবহার করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তাদের পথ অনুসরণ করেই ২০২২ সালে ডিউক বল চালু করেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর বাংলাদেশের নামই যুক্ত হয়েছিল ডিউক বল ব্যবহার করা দেশের তালিকায়। এখন সেই পথ থেকে সরে আসবে কি না, তার উত্তর মিলবে বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।

Share via
Copy link