সময়টা ২০০৩ সাল। ক্যাঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমেছিল একঝাঁক তরুণ বাংলাদেশি। প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে তখন ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকরতম এক ক্রিকেট দল। স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ম্যাথিউ হেইডেন, গ্লেন ম্যাকগ্রা—নামগুলো শুনলেই বোঝা যায়, কতটা কঠিন ছিল সেই লড়াই।
মাত্র তিন বছরের টেস্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে সেই দৈত্যের সামনে দাঁড়ানো, ভাবা যায়! ফলাফল অবশ্যই পক্ষে ছিল না বাংলাদেশের। অসম সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশ দল দাঁড়াতেই পারেনি। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৩২ রানে, আর কেয়ার্নসে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৯৮ রানে হারতে হয়েছিল সফরকারীদের।

কিন্তু, হারের ভেতরেও লুকিয়ে ছিল সাহসের কিছু গল্প। ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম একাই টানা দুইশ একুশ মিনিট ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন, রান করেছিলেন মোটে ২৬ টি। তবুও সেই ইনিংসেই ছিল আসল যোদ্ধার পরিচয়। তার, সঙ্গী হান্নান সরকার খেলেছিলেন সিরিজের সর্বোচ্চ ৭৬ রানের ইনিংস।
মিডল অর্ডারে হাবিবুল বাশার সুমন করেছিলেন ৫৪ আর ৪৬ রান, ব্যাট হাতে দেখিয়েছিলেন লড়াইয়ের ঠিকানা। আর বল হাতে তরুণ মাশরাফি বিন মর্তুজা প্রথম টেস্টে নিয়েছিলেন তিন উইকেট, শিকারের তালিকায় ছিলেন হেইডেন, পন্টিং আর গিলক্রিস্টের মতো তারকারা—গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো এক পারফরম্যান্স।

মজার ব্যাপার হলো, সেই হাবিবুল বাশার সুমনই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক, যার হাত ধরেই ঠিক হয়েছে এবারের অস্ট্রেলিয়াগামী দল। যে মাটিতে একসময় ব্যাট হাতে লড়াই করেছিলেন, সেই মাটিতেই এবার নতুন প্রজন্মকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নিজেই।
সেই সময় দলে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুল এখন দলের ব্যাটিং কোচ। বাংলাদেশ দলও এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞা।মাত্র তিন বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সেই ড্রিম টিমের সামনে দাঁড়ানো দলটার চেয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর বর্তমান দল অনেক বেশি পরিণত, অনেক বেশি প্রস্তুত।

২৩ বছর আগে যে অনভিজ্ঞ দলটা অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের চেনানোর চেষ্টা করেছিল, সেই দলেরই সদস্যরা এবার ভিন্ন ভূমিকায় দাঁড়িয়ে দেখছেন বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে। এবার কি তবে পুরোনো সেই ইতিহাস ফিরে আসবে, নাকি একদম নতুন গল্প লিখবে শান্তর দল?











