থমাস ডুলির বহরে তিন বিদেশি মাস্টারমাইন্ড!

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ঢাকঢোল বাজার আগেই জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে যুক্ত হলো তিনটি নতুন মুখ, আর প্রত্যেকের গায়েই লেগে আছে বিশ্ব ফুটবলের ভিন্ন ভিন্ন মাটির গন্ধ। প্রধান কোচ থমাস ডুলির পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশে আসছেন জার্মানি ও ভিয়েতনামের তিন কোচ, যাদের প্রত্যেকের সিভিতেই লেখা আছে বহু দেশ ঘুরে আসা অভিজ্ঞতার গল্প।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ঢাকঢোল বাজার আগেই জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে যুক্ত হলো তিনটি নতুন মুখ, আর প্রত্যেকের গায়েই লেগে আছে বিশ্ব ফুটবলের ভিন্ন ভিন্ন মাটির গন্ধ। প্রধান কোচ থমাস ডুলির পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশে আসছেন জার্মানি ও ভিয়েতনামের তিন কোচ, যাদের প্রত্যেকের সিভিতেই লেখা আছে বহু দেশ ঘুরে আসা অভিজ্ঞতার গল্প।

গোলবারের নিচে জাতীয় দলের প্রহরীদের নিয়ে কাজ করবেন জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান বারবুকাস। ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সী এই কোচ নিজেও একসময় গ্লাভস পরে দাঁড়িয়েছেন জার্মানি ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও ক্লাব ফুটবলে, আর ২০০৩ সালে কোচিংয়ের পথে পা রাখার পর দায়িত্ব সামলেছেন কাজাখস্তান জাতীয় দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবেও। সবশেষ তিনি কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ লিগে পার্থের ক্লাব ফুটবলে, গোলরক্ষকদের প্রস্তুত করার দায়িত্বে। এবার তার হাত ধরেই ঝালাই হবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক বিভাগ।

সহকারী কোচের আসনে বসছেন দুজন। এশিয়ার প্রতিনিধি হয়ে আসছেন ভিয়েতনামের নগুয়েন হোয়াং লান, এএফসির ‘সি’ লাইসেন্সধারী এই কোচ এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন গায়ানা জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে, সবশেষ একই ভূমিকায় ছিলেন ভিয়েতনামের দ্বিতীয় বিভাগের এক ক্লাবে।

অভিজ্ঞতার ভারে সবচেয়ে সমৃদ্ধ নামটি জার্মানির রেইনহার্ড স্টাম্ফের। চৌষট্টি বছর বয়সী এই সাবেক সেন্টার-ব্যাক নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে জিতেছেন জার্মান কাপ আর বুন্দেসলিগা শিরোপা, পরে জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন গালাতাসারাই আর এফসি কোলনের মতো ক্লাবেও। কোচিং ক্যারিয়ারে ভলফসবুর্গ ও গালাতাসারাইয়ের সহকারী কোচের চেয়ার পেরিয়ে তিনি প্রধান কোচ হিসেবে দাঁড়িয়েছেন সৌদি আরবের আল শাবাব ও আল ইত্তিফাকের ডাগআউটে। উয়েফার প্রফেশনাল লাইসেন্সধারী এই কোচের অভিজ্ঞতাই বাফুফেকে দিচ্ছে বাড়তি ভরসা।

হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়েই প্রথম ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিবাচক সূচনা করেছিলেন থমাস ডুলি। এবার সেই যাত্রায় যুক্ত হলো তিন দেশের তিন অভিজ্ঞতা।

সেই নতুন কোচিং প্যানেলের ছায়াতলে দলটাও যেন খুঁজে পাচ্ছে নতুন চেহারা। অন্তত পাঁচজন প্রবাসী ফুটবলারকে জাতীয় দলে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাফুফে, যাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিম ও উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদের নাম প্রায় নিশ্চিত—ফিফা-এএফসির ছাড়পত্র মিলেছে, বাকি শুধু কাগুজে প্রক্রিয়া। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরীর আগমনে যে জাগরণ শুরু হয়েছিল দেশের ফুটবলে, সেই পথ ধরেই যেন একের পর এক প্রবাসী প্রতিভা খুঁজে বেড়াচ্ছে ফেডারেশন—মাঠ ছেড়ে যাওয়া দর্শকও যাদের হাত ধরে আবার ফিরছে গ্যালারিতে।

বিদেশি কোচিং স্টাফের অভিজ্ঞতা আর প্রবাসী ফুটবলারদের প্রতিভা—এই দুই স্রোত একসঙ্গে মিশে গিয়ে কি তবে ফিরিয়ে আনবে বাংলাদেশ ফুটবলের সেই হারানো সোনালী দিনগুলো, যে দিনের গল্প এখনো মুখে মুখে ফেরে এই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link