যে নীরবতায় লুকিয়ে ছিল ধ্বংসের নকশা

কিছু মানুষ চিৎকার করে জেতে না, তারা জেতে নীরবতা দিয়ে। মাঠে হাসান মাহমুদকে দেখলে মনে হয় না তিনি প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে এসেছেন—শরীরী ভাষায় নেই কোনো আস্ফালন, চোখেমুখে নেই আগ্রাসনের ছাপ। বরং সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এই ছেলেটাকে দেখে কখনো কখনো মনে হয়, তিনি বুঝি হারিয়ে গেছেন নিজের ভেতরেই, কোনো এক নিভৃত ভাবনায়। কিন্তু ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ বুঝেছে, এই শান্ত চেহারার আড়ালেই লুকানো ছিল সবচেয়ে নিখুঁত এক ধ্বংসের নকশা।

কিছু মানুষ চিৎকার করে জেতে না, তারা জেতে নীরবতা দিয়ে। মাঠে হাসান মাহমুদকে দেখলে মনে হয় না তিনি প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে এসেছেন—শরীরী ভাষায় নেই কোনো আস্ফালন, চোখেমুখে নেই আগ্রাসনের ছাপ। বরং সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এই ছেলেটাকে দেখে কখনো কখনো মনে হয়, তিনি বুঝি হারিয়ে গেছেন নিজের ভেতরেই, কোনো এক নিভৃত ভাবনায়। কিন্তু ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ বুঝেছে, এই শান্ত চেহারার আড়ালেই লুকানো ছিল সবচেয়ে নিখুঁত এক ধ্বংসের নকশা।

টস হেরে বোলিংয়ে নেমেই প্রথম দিনের প্রথম বল থেকে চাপ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলাদেশ, আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল কারিগর হয়ে উঠলেন হাসান। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুঁড়িয়ে দিতে একাই তুলে নিলেন ছয় উইকেট, খরচ মাত্র ৫৫ রান। এরপর ব্যাট হাতেও দেখালেন ধৈর্যের পরিচয়—৯২ বল খেলে যোগ করলেন মূল্যবান কিছু রান, যা দলকে পৌঁছে দিল বড় সংগ্রহে। আর গল্পের শেষটা যেন নিজের হাতেই লিখতে চাইলেন—দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিন উইকেট তুলে ম্যাচে মোট শিকার দাঁড় করালেন ৯টিতে।

এই পরিসংখ্যান নিছক একটা সংখ্যা নয়। দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এক ম্যাচে এত ভালো বোলিং ফিগার আগে দেখা যায়নি। মেহেদী হাসান মিরাজের বহুদিনের রেকর্ড এবার নতুন মালিক পেল, আর সেই মালিকানা বদলের সাক্ষী থাকলেন খোদ মিরাজ নিজেই, মাঠের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এই বিপর্যয়কে যেভাবে নাম দিয়েছে, তার শুরুর বিন্দুতে ছিলেন হাসানই।

অথচ এত বড় কীর্তির পরও হাসানের কথায় নিজের নাম প্রায় উচ্চারিতই হলো না। পুরস্কার হাতে নিয়ে তাঁর মুখে বারবার ফুটে উঠল দলের কথা, সতীর্থদের কথা—অনুশীলনের প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা, ভিডিও বিশ্লেষণ করে গড়ে তোলা পরিকল্পনা, আর সেই পরিকল্পনা মাঠে হুবহু বাস্তবায়নের গল্প। যেন ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে দলীয় সাফল্যের গল্প বলাতেই তাঁর স্বস্তি বেশি।

এই বদলে যাওয়া হাসানের রহস্য লুকিয়ে আছে অনেকটা দূরের এক মাঠে। কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর বোলিংয়ে এনে দিয়েছে নতুন এক পরিপক্বতা—লাল বলে নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ, চাপ তৈরির ধৈর্য, প্রতিটি ওভারে উদ্দেশ্যপূর্ণ পরিকল্পনা। এতটাই যে ক্রিকেট বিশ্বের কিংবদন্তিরাও তাঁর প্রশংসায় মুখর হয়েছেন—বলেছেন, চোখধাঁধানো কোনো বৈচিত্র্য ছাড়াই শুধু নিখুঁত টেস্ট লেংথ দিয়েই কীভাবে ব্যাটসম্যানদের কাবু করা যায়, সেটাই দেখিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

একসময় যাকে মূলত সাদা বলের বোলার হিসেবেই চেনা হতো, আজ সেই হাসান মাহমুদই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হয়ে উঠছেন। দেশে ফেরার আগে নিজেই বলছেন, দেশের মানুষের আনন্দের ছবিটা চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পান তিনি। ডারউইনে যা ঘটল, তা শুধু নয় উইকেটের গল্প নয়—এটা এক নীরব যোদ্ধার নিজেকে নতুন করে চেনানোর গল্প।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link