গল্পটা রাউল গঞ্জালেসের!

রাউল গঞ্জালেস ব্লাঙ্কো - যাকে ফুটবল বিশ্ব চেনে স্প্যানিশ ফুটবলের শৌর্য, নিষ্ঠা ও ধ্রুপদী নান্দনিকতার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে। তিনি কেবল রিয়াল মাদ্রিদের একজন সফল অধিনায়ক বা গোলদাতা নন, বরং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সাদা সাম্রাজ্যের এক অমর মহাকাব্য।

রাউল গঞ্জালেস ব্লাঙ্কো – যাকে ফুটবল বিশ্ব চেনে স্প্যানিশ ফুটবলের শৌর্য, নিষ্ঠা ও ধ্রুপদী নান্দনিকতার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে। তিনি কেবল রিয়াল মাদ্রিদের একজন সফল অধিনায়ক বা গোলদাতা নন, বরং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সাদা সাম্রাজ্যের এক অমর মহাকাব্য। স্প্যানিশ ফুটবলের রাজকীয় আঙিনায় কত নক্ষত্রের উদয় ও অস্ত ঘটেছে তার ইয়ত্তা নেই, কিন্তু রাউলের নাম সময়ের বাঁধন পেরিয়ে রয়ে গেছে চির অমলিন।

১৯৭৭ সালের ২৭ জুন মাদ্রিদের সান ক্রিস্তোবাল দে লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম হয় তাঁর। রাউলের ফুটবলের পাঠ শুরু হয়েছিল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের যুব একাডেমিতে। কিন্তু ভাগ্যের এক বিচিত্র পরিহাসে অ্যাতলেটিকোর আর্থিক সংকটের কারণে তাদের অ্যাকাডেমি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তরুণ রাউলের ঠিকানা হয় নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদে। কে জানত, লাল-সাদা রঙ হারিয়ে রিয়ালের ধবধবে সাদা জার্সিতে নিজেকে সঁপে দেওয়াই ছিল তাঁর নিয়তি!

১৯৯৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তৎকালীন ম্যানেজার হোর্হে ভালদানো যখন রাউলকে রিয়ালের মূল দলে সুযোগ দেন, তখন থেকেই শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়ের। রিয়ালের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে প্রথম মৌসুমেই নিজের সহজাত গোল করার দক্ষতা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দেন তিনি।

রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে দীর্ঘ ষোলো বছর (১৯৯৪–২০১০) ধরে রাজত্ব করে ৭৪১টি ম্যাচে তিনি করেছেন ৩২৩টি গোল। তাঁর নেতৃত্বে এবং জাদুকরী উপস্থিতিতে রিয়াল মাদ্রিদ ছয়টি লা লিগা এবং তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অজস্র ট্রফি জয় করে। গোল করার পর নিজের বিয়ের আংটিতে চুমু খাওয়ার বিখ্যাত উদযাপনটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরতরে খোদাই হয়ে আছে।

​২০১০ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর তিনি জার্মানির এফসি শালকে ছাড়াও কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবে খেলে নিজের দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানেন। জাতীয় দল স্পেনের হয়েও ১০২ ম্যাচে ৪৪ গোল করে লাল জার্সিতে গভীর ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

​খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবে তিনি আবারও ফিরে এসেছেন তাঁর প্রাণের কেন্দ্র রিয়াল মাদ্রিদে। রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলের দায়িত্ব সামলে তিনি গড়ে তুলছেন নতুন দিনের তারকাদের।

​পেশাদারিত্ব, বিনয় এবং নেতৃত্বের যে দৃষ্টান্ত রাউল গঞ্জালেস রেখে গেছেন, তা যুগের পর যুগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাস যত দিন লেখা থাকবে, ‘এল কাপিতান’ রাউলের নাম সেখানে স্বর্ণাক্ষরে জ্বলজ্বল করবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link