ম্যারাডোনা-মেসিদেরও অগ্রদূত যিনি!

মারিও আলবের্তো কেম্পেস -  এই নামটির সঙ্গেই চিরতরে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বজয়ের মহাকাব্য। ফুটবল দুনিয়া যাকে একনামে চেনে ‘এল মাতাদোর’ বা নির্দয় শিকারি হিসেবে।

মারিও আলবের্তো কেম্পেস –  এই নামটির সঙ্গেই চিরতরে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বজয়ের মহাকাব্য। ফুটবল দুনিয়া যাকে একনামে চেনে ‘এল মাতাদোর’ বা নির্দয় শিকারি হিসেবে।

তিনি কেবল একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার ছিলেন না। সামরিক স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুতে ভেঙে পড়া গোটা আর্জেন্টাইন জাতিকে ফুটবল মাঠে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ারে ভাসানোর একক রূপকার ছিলেন এই কিংবদন্তি। ডিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা লিওনেল মেসির বহু আগেই নীল-সাদা জার্সিতে বিশ্বজয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি।

১৯৫৪ সালের ১৫ জুলাই আর্জেন্টিনার কর্দোবার বেল ভিলে জন্মগ্রহণ করেন মারিও কেম্পেস। ফুটবলার বাবার হাত ধরে শৈশবেই তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি। স্থানীয় ক্লাব ইন্সতিতুতোতে খেলার পর ১৯৭৪ সালে তিনি যোগ দেন রোসারিও সেন্ট্রালে। সেখানে মাত্র ১০৭ ম্যাচে ৮৯টি গোল করে ইউরোপের ক্লাবগুলোর ঘুম ভাঙিয়ে দেন এই তরুণ স্ট্রাইকার।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন রেকর্ড অর্থের বিনিময়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ভ্যালেন্সিয়া সিএফে পাড়ি জমান কেম্পেস। ভ্যালেন্সিয়ার ঐতিহাসিক মেস্তায়া স্টেডিয়ামে শুরু হয় তাঁর স্প্যানিশ সাম্রাজ্য। প্রথম দুই মৌসুমেই যথাক্রমে ২৪ ও ২৮টি গোল করে টানা দুবার লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘পিচিচি’ ট্রফি জয় করেন তিনি।

ভ্যালেন্সিয়াকে তিনি উপহার দেন কোপা দেল রে, ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ এবং ইউরোপিয়ান সুপার কাপ। দুই দফায় ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে ২৪৬টি অফিসিয়াল ম্যাচে ১৪৯টি গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তিনি।

​তবে মারিও কেম্পেসের ক্যারিয়ারের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালের স্বাগতিক আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে। কোচ সিজার লুইস মেনোত্তির স্কোয়াডে একমাত্র প্রবাসী ফুটবলার ছিলেন তিনি। প্রথম পর্বের তিন ম্যাচে গোল না পেয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও দ্বিতীয় পর্ব থেকে তিনি এক বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন। পোল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল এবং পেরুর বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জোড়া গোল করে দলকে একাই ফাইনালে তোলেন।

​বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে ডাচদের বিরুদ্ধে ফাইনালের রাতটি ছিল কেম্পেসের জীবনের শ্রেষ্ঠ ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে রক্তগরম করা দুটি গোল এবং দানিয়েল বের্তোনির করা দলের তৃতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ ব্যবধানে প্রথম বিশ্বকাপ জেতান। আসরে সর্বমোট ছয়টি গোল করে একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ট্রফি, সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ এবং সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ – এই ত্রিমুকুট জয় করেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে ৪৩ ম্যাচে ২০টি আন্তর্জাতিক গোল করা এই কিংবদন্তির সম্মানার্থে তাঁর জন্মস্থান কর্দোবার বিখ্যাত স্টেডিয়ামটির নাম রাখা হয়েছে ‘এস্তাদিও মারিও আলবের্তো কেম্পেস’। অস্ট্রিয়া, ইতালি ও ইন্দোনেশিয়ার ক্লাবে খেলে বুট জোড়া তুলে রাখার পর বর্তমানে তিনি ইএসপিএনের জনপ্রিয় ফুটবল বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link