মরিনহোকেই যে দরকার ছিল!

রিয়ালের ডাগআউটে এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ডের আগমন শুধু খেলার ফলাফল নয়, ক্লাবের ট্যাকটিক্যাল ডিএনএ এবং তারকাদের মানসিকতাও বদলে দিচ্ছে।

বার্নাব্যুতে হোসে মরিনহোর প্রত্যাবর্তনটা রাঙিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে-ভিনিসিয়াসরা, আর রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে গত মৌসুমের অন্ধকার ভুলে আলো ফিরে পেল মাদ্রিদ। রিয়ালের ডাগআউটে এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ডের আগমন শুধু খেলার ফলাফল নয়, ক্লাবের ট্যাকটিক্যাল ডিএনএ এবং তারকাদের মানসিকতাও বদলে দিচ্ছে।

গত মৌসুমে মাঝমাঠের গভীর থেকে বল গড়ে তোলার দায়িত্ব পাওয়া জুড বেলিংহামের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ধার কিছুটা ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। মরিনহো এসে প্রথম যে কাজটা করেছেন, তা হলো বেলিংহামকে তাঁর শক্তির জায়গায় ফিরিয়ে আনা। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা ‘নাম্বার টেন’ পজিশন।

প্রথম ম্যাচেই এস্পানিয়লের বিপক্ষে গোল দিয়েই মৌসুমের সূচনা করেছিলেন বেলিংহাম। সোসিয়েদাদের বিপক্ষেও বেলিংহাম কেবল দুইটি সরাসরি অ্যাসিস্ট আর গোল ক্রিয়েট করেননি, তাঁর ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচের এক পর্যায়ে বেলিংহাম গিয়ে প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে হাই-প্রেস করেছেন, হোসে মরিনহো বলেই সম্ভব। সাবেক কোচ বা ম্যানেজমেন্টের অধীনে যেখানে ফরোয়ার্ডদের প্রধান কাজ ছিল শুধুই গোল বানানো, সেখানে মরিনহোর ৪-২-৩-১ কিংবা ডায়মন্ড ৪-৪-২ ফরমেশনে বেলিংহাম প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে কাজ করছেন।

মরিনহোর মাদ্রিদ মানেই বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক এবং কম্প্যাক্ট ডিফেন্সিভ ব্লক। সোসিয়েদাদের মতো বল পজেশন পছন্দ করা দলের বিরুদ্ধে মিডফিল্ডে ট্র্যাপ পেতেছে মাদ্রিদ, যেখানে বেলিংহাম ও এমবাপ্পে প্রতিপক্ষের হাফ স্পেস ব্লক করে বল কেড়ে নেন।

বল উইন করার দুই-তিন সেকেন্ডের মধ্যে উইং দিয়ে ভিনিসিয়াস বা সরাসরি বেলিংহামের বাড়ানো থ্রু বলে বক্সে প্রবেশ করছে আক্রমণ। সবচেয়ে বড় কথা, আক্রমণভাগের তারকাদেরও নিয়মিত ট্র্যাক ব্যাক করতে হচ্ছে, যা পুরো দলকে ডিফেন্সিভ ভারসাম্য এনে দিচ্ছে।

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের গ্যালাকটিকো প্রোজেক্টের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিশাল সব ইগো একসাথে ম্যানেজ করা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র কিংবা বেলিংহামের মতো মহাতারকারা দলে থাকলে কাকে কখন সাব করা হবে, তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

ঠিক এই জায়গায় মরিনহো অনন্য। সোসিয়েদাদ ম্যাচে ৭৮ মিনিটে অসাধারণ ফর্মে থাকা বেলিংহামকে উঠিয়ে এদুয়ার্দো কামাভিংগাকে নামানো কিংবা গোল পাওয়ার পরেই ভিনিসিয়াসকে সাব করার মতো কঠোর পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত! ডাগআউটে বসে থাকা কোচের ব্যক্তিত্বের সামনে যেকোনো তারকার ইগো মেনে নিতে বাধ্য।

রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে এখন শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের যে আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে, তা প্রমাণ করে এই গ্যালাকটিকো দলকে সামলাতে মরিনহোই ছিলেন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সবচেয়ে নিখুঁত ট্রাম্পকার্ড।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link