দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হৃদয়ের মহাকাব্য!

দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে তখন গোধূলির আভা, ঠিক তখনই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন তাওহিদ হৃদয়। কাট শটে বল বাউন্ডারিতে যেতেই ২০৩ রানে পা রাখলেন তিনি, হেলমেট খুলে উদযাপনে ফেটে পড়লেন—আর সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিশতক হাঁকানো প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়ে গেলেন হৃদয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে তখন গোধূলির আভা, ঠিক তখনই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন তাওহিদ হৃদয়। কাট শটে বল বাউন্ডারিতে যেতেই ২০৩ রানে পা রাখলেন তিনি, হেলমেট খুলে উদযাপনে ফেটে পড়লেন—আর সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিশতক হাঁকানো প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়ে গেলেন হৃদয়।

এর আগে এই মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের দখলে—২০২২ সালে ডারবানে ১৩৭ রান। মাঝে পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ড যেন অপেক্ষায় ছিল কারও জন্য। হৃদয় এসে শুধু সেই রেকর্ড ছুঁলেন না, একেবারে উড়িয়ে দিলেন সীমানা।

শুরুটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৫ রানেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন ধ্বংসস্তূপে বাংলাদেশ ‘এ’ দল, তখন ব্যাট হাতে নামেন অধিনায়ক নিজেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ যেন গিলে খেতে চাইছিল দলকে। সেই আগুনে ঝাঁপ দিয়েই জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১৫১ রানের প্রতিরোধ। জাকের ৯৪ রানে ফিরলেও হৃদয় থামেননি। এরপর সাইফুদ্দিনকে নিয়ে যোগ করেন আরও ১৮৫ রান।

৩৩৯ বল—দীর্ঘ এক অধ্যবসায়ের গল্প। ২২টি চার, একটি ছক্কা। ১৬৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর যেন থামারই নাম নেননি হৃদয়। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ২০৪ রানে দিন শেষ করেন তিনি, বাংলাদেশ পৌঁছায় ৬ উইকেটে ৪৭১ রানে—দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে মোটে ৪১ রান পিছিয়ে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি হৃদয়ের দ্বিতীয় দ্বিশতক, প্রথমটি এসেছিল ২০২২ সালের বিসিএলে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে, প্রতিপক্ষের বিশাল সংগ্রহের জবাবে, দলের বিপর্যয় থেকে টেনে তোলা এই ইনিংস—এ যেন অন্য উচ্চতার এক কীর্তি। মুশফিকুর রহিম কিংবা সাকিব আল হাসানের বিদেশের মাটিতে দ্বিশতকের তালিকায় এবার যুক্ত হলো হৃদয়ের নামও।

চতুর্থ দিনের সকালে যখন আবার ব্যাট হাতে নামবেন হৃদয়, তখন কি আরও একবার ছাড়িয়ে যাবেন নিজেকে?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link