কেন মিরাজ প্রেমে মজেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দুনিয়া?

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দুনিয়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের বেশ চাহিদা। অথচ, জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনাতেও তিনি নেই। সেই মিরাজ কখনও পিএসএল, কখনও এলপিএল, কখনও বা খেলছেন সিপিএলে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দুনিয়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের বেশ চাহিদা। অথচ, জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনাতেও তিনি নেই। সেই মিরাজ কখনও পিএসএল, কখনও এলপিএল, কখনও বা খেলছেন সিপিএলে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অলরাউন্ডার খোঁজার মিরাজের নামটা আসছে ঘুরে ফিরে। পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, দলগুলোর জন্য তিনি বিরাট একট লাকি চার্ম। দেশের বাইরে যাদের হয়ে খেলেন তাঁরাই জিতে যায় শিরোপা।

গল্পটা শুরু ২০১৭ সালে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মিরাজকে দলে নিয়েছিল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। সেবার একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ড্রেসিংরুমে বসেই দেখেছেন সতীর্থদের উৎসব। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ত্রিনবাগো।

এরপর প্রায় আট বছর পর ২০২৫ সালে পাকিস্তান সুপার লিগের প্লে-অফে জরুরি ভিত্তিতে মিরাজকে উড়িয়ে নেয় লাহোর কালান্দার্স। ফাইনালে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারিয়ে আবারও শিরোপা জেতে লাহোর। কুশল পেরেরার অপরাজিত ৬২ আর সিকান্দার রাজার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আসে জয়। মজার ব্যাপার, মিরাজ তখনও একাদশের বাইরে!

গল্পের তৃতীয় অধ্যায় চলতি বছরের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে। গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের স্কোয়াডে ছিলেন মিরাজ। ফাইনালে জাফনা কিংসকে মাত্র ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় গল। মিরাজ সেবারও মাঠে ছিলেন না। কিন্তু ট্রফি জেতা দলের অংশ ছিলেন তিনি।

তিন লিগ, তিন শিরোপা। তিনবারই মাঠের বাইরে থেকে উৎসব দেখেছেন মিরাজ! এর এটাই নাকি মিরাজের এক্স-ফ্যাক্টর। তিনি থাকলেই দলগুলো জিতে যাচ্ছে শিরোপা।

এবার সেই গল্পে যোগ হয়েছে নতুন অধ্যায়। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে মিরাজকে দলে নিয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। আর দলটি এখন আছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। তাই মিরাজকে ঘিরে ‘লাকি চার্ম’ তত্ত্বটাও আবার আলোচনার রসহ যোগাচ্ছে।

তবে মিরাজের মূল্য শুধু ভাগ্যে নয়। শতাধিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাঁকে দিয়েছে পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা। ব্যাট হাতে নিচের দিকে নেমে প্রয়োজনীয় কিছু রান করতে পারেন কখনও কখনও, বল হাতে হিসেবি অফস্পিন, দুটোই দিতে পারেন তিনি। সঙ্গে আছে দ্রুত ফিল্ডিং আর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা।

অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিপিএলেও অধিনায়কত্ব করেছেন। ফলে নতুন কোনো ড্রেসিংরুমে গিয়ে মানিয়ে নেওয়া কিংবা সতীর্থদের উজ্জীবিত করা, এসব কাজেও তিনি বেশ কার্যকর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিরাজ বেশ অভিজ্ঞ, সেই অভিজ্ঞতারও এখানে কিছু তো দাম আছেই। সব মিলিয়ে খুব বেশি আশাব্যঞ্জক পারফরম্যান্স না থাকার পরও মিরাজ কালক্রমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ‘হট কেক’ হওয়ার পথেই আছেন।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link