নরক থেকে স্বর্গীয় জয় নিয়েই ফিরল বার্সেলোনা

এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১৫ মিনিটের এক ঝোড়ো তাণ্ডবে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে চলতি মৌসুমের ব্যাক-টু-ব্যাক জয় তুলে নিল হ্যান্সি ফ্লিকের দল। 

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইস্তাম্বুলের নরকতুল্য আবহাওয়া সমৃদ্ধ রামস পার্কে স্বাগতিক গালাতাসারেকে ৪-১ ব্যবধানে চূর্ণ করেছে বার্সেলোনা। এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১৫ মিনিটের এক ঝোড়ো তাণ্ডবে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে চলতি মৌসুমের ব্যাক-টু-ব্যাক জয় তুলে নিল হ্যান্সি ফ্লিকের দল।

ফ্লিক তাঁর ট্রেডমার্ক হাই-ডিফেন্সিভ লাইন বজায় রেখে রদ্রি ও পেদ্রিকে মাঝমাঠের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। গালাতাসারের কোচ ওকান বুরুক বার্সার এই হাই-লাইনকে লক্ষ্য করে দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকের কৌশল নেন।

উইংয়ে বারিশ আলপের ইলমাজ এবং উইং-ব্যাকদের গতি বার্সেলোনার ডিফেন্সকে শুরুর দিকে অস্বস্তিতে ফেলে। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের ফাস্ট ব্রেকের পর বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে গোল করে গালাতাসারেকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আলেক্সি বাত্রাকভ।

গোল খাওয়ার পর বার্সেলোনা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নেয় এবং মাঝমাঠে ৬৫ শতাংশ পজেশন ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজায়। বার্সেলোনার ফুলব্যাক জোয়াও ক্যান্সেলো প্রথমার্ধের শেষদিকে ওভারল্যাপ না করে ইনভার্টেড ফুলব্যাক হিসেবে হাফ-স্পেসে উঠে আসেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ৪৩তম মিনিটে দানি ওলমোর অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের বাম দিক থেকে ডান পায়ের দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান জোয়াও ক্যান্সেলো। এই গোলটি ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে বার্সার দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

বিরতির পর হ্যান্সি ফ্লিক পিচ উইডথ বাড়াতে দুই উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ও অ্যান্থনি গর্ডনকে টাচলাইনের একদম কাছাকাছি প্রসারিত করেন, যা গালাতাসারের ডিফেন্সিভ ব্লক ভেঙে ফেলে। ৫০তম মিনিটে কর্নার থেকে লামিনে ইয়ামালের বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডার দিয়ে বার্সাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফারমিন লোপেস।

ঠিক তার তিন মিনিট পর ৫৩তম মিনিটে রাইট সাইড অফ দ্য সিক্স ইয়ার্ড বক্স থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অ্যান্থনি গর্ডন, যার পেছনেও অ্যাসিস্ট করেছিলেন সেই লামিনে ইয়ামাল। এরপর ৬৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা করিম আদেয়েমি বক্সের বাম দিক থেকে বাঁ পায়ের শটে বল সোজা গোলমুখে পাঠিয়ে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ গোলটি নিশ্চিত করেন।

বিরতির পর ইস্তাম্বুলের প্রচণ্ড বৈরী পরিবেশ ও দর্শকদের আওয়াজ উপেক্ষা করে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা যে ম্যাচিউরিটি দেখিয়েছে, তা চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে তাদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link