দ্বিতীয়ার্ধের ঝোড়ো ফুটবলের সুবাদে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে ফরাসি ক্লাব লিলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে গানার্সরা। এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথম অর্ধে ফরাসি ক্লাবটির রক্ষণাত্মক দেয়াল ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হলেও, আর্তেতার সাহসী এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ম্যাচের পুরো চিত্র বদলে দেয়।
ম্যাচে দুই দলই মূলত ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মাঠে নেমেছিল। লিলের কোচ প্রথমার্ধে অত্যন্ত আঁটসাঁট লো-ব্লক ডিফেন্সিভ শেপ বেছে নেন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে জোড়া পিভট ব্যবহার করে তারা আর্সেনালের আক্রমণকে মাঝমাথেই আটকে রাখার কৌশল নেয়।
যার ফলে প্রথমার্ধে আর্সেনাল বলের দখল নিজেদের কাছে রাখলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক ব্যারিকেড ভেদ করে বক্সের ভেতরে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছিল। লিলের সুশৃঙ্খল ডিফেন্সের সামনে ভিক্টর গিওকারেসকে অনেকটা নিস্ক্রিয় দেখাচ্ছিল।

ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে চৌষট্টিতম মিনিটে। মিকেল আর্তেতা একযোগে তিনটি পরিবর্তন এনে খেলার গতিপথ সম্পূর্ণ পাল্টে দেন। ননি মাদুয়েকের পরিবর্তে বুকায়ো সাকা, মিকেল মেরিনোর পরিবর্তে মার্টিন অডেগার্ড এবং ভিক্টর গিওকারেসের বদলি হিসেবে কাই হাভেরটজকে মাঠে নামানো হয়।
এই ট্রিপল সাবস্টিটিউশনের পর আর্সেনালের আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য ও গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। মার্টিন অডেগার্ড মাঠে নেমেই লিলের রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে দুর্দান্ত লাইন-ব্রেকিং পাস দিতে শুরু করেন, অন্যদিকে সাকা উইং থেকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখেন।
বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নামার পর মাত্র সাত মিনিটের ঝড়ে লিল ডিফেন্সে ধস নামে। চৌষট্টি মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলের হয়ে ডেডলক ভেঙে প্রথম গোলটি করেন ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বার। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ডানপ্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার নিখুঁত অ্যাসিস্টে দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবারবেরেশি এজে। এরপর সত্তর মিনিটে কাই হাভার্টজের বাড়ানো বল থেকে গোলকিপারকে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন বদলি হিসেবে নামা বুকায়ো সাকা নিজেই।

ম্যাচের সার্বিক পরিসংখ্যানও আর্সেনালের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের গল্পই বলে। পুরো ম্যাচে আটান্ন শতাংশ বল পজেশন রেখে আর্সেনাল যেখানে মোট ষোলটি শট নেয় এবং যার মধ্যে নয়টি শট ছিল অন টার্গেট। লিলের সুসংগঠিত কমপ্যাক্ট ডিফেন্স প্রথমার্ধে আর্সেনালকে আটকে রাখলেও, দ্বিতীয়ার্ধে আর্তেতার ট্যাকটিক্যাল বদল এবং স্কোয়াড ডেপথের সঠিক ব্যবহারই গানার্সদের ৩-০ গোলের সহজ ও স্বস্তিদায়ক জয় উপহার দেয়।











