বাংলাদেশের জন্যে সুখবর দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোয়াড ঘোষনা!

হোপ নেই, জোসেফও নেই। তবু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের নেই। কারণ ফাইনালের দৌড়ে এক ম্যাচের হোঁচটই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।

ভারতের বিপক্ষে দারুণ ছন্দে থাকা শাই হোপকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ম্যাচের সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে নেই পেসার আলজারি জোসেফও। দুজনের একজন বিশ্রামে, আরেকজন চোটের ঝুঁকিতে। ক্যারিবিয়ান শিবিরের জন্য এটা ছোটখাটো ধাক্কা হলেও বাংলাদেশের জন্য বরং স্বস্তির খবর।

যদিও হোপ কে দলে না রাখা তাঁদের প্রেক্ষাপটে যথার্থই বলা যায়,  এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা ক্রিকেটার তিনিই, আর সেই কারণেই তাঁকে খেলতে হচ্ছে তিন সংস্করণেই, প্রায় সব ম্যাচেই। সাদা বলের অধিনায়ককে তাই বিশ্রাম দিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ কারণ সামনে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। সেখানে হোপকে ফুল ফিট রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। ভারত সিরিজে যে ব্যাটসম্যান দাপট দেখিয়ে এসেছেন, ঢাকা-সিলেটের  উইকেটে তাঁর না থাকা বাংলাদেশের বোলারদের জন্য নিশ্চিতভাবেই বড় একটা চিন্তা কমাল।

জোসেফের সরে যাওয়ার গল্পটা অবশ্য আলাদা। নিয়মিত ফিটনেস টেস্টের পর  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে টেস্ট দল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, এতে তাঁর নিজেরও সম্মতি ছিল। চোটের ঝুঁকি এড়ানোই মূল লক্ষ্য। তাঁর জায়গায় ডাক পেয়েছেন অলরাউন্ডার কেমো পল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কেভিন উইকহ্যাম। ২৩ বছর বয়সী বার্বাডোজের এই ব্যাটসম্যান প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন, আর সেটা এমনি এমনি নয়। গত এপ্রিল-মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ তিন ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ইনিংসগুলো ছিল ১০৫, ১৫৩ আর অপরাজিত ১০৮। পুরো আসরে ৭৮.৬০ গড়ে করেছেন ৩৯৩ রান, যা তাঁকে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় বসিয়েছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও রেকর্ড দারুণ। ২৫ ম্যাচে ছয় সেঞ্চুরিসহ গড় ৪০.৮৮,  টানা তিন সেঞ্চুরির পর টেস্টের দরজা খুলে যাওয়াটা তাই অপ্রত্যাশিত নয়।

দলে ফিরেছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেলও। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ মিস করেছিলেন তিনি। তাঁর বদলি হিসেবে এসেছিলেন কার্ক ম্যাকেঞ্জি, কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। ক্যাম্পবেল ফিরতেই তিনি বাদ পড়েছেন, বাকি দল মোটামুটি অপরিবর্তিত,গত দুই সিরিজের খেলোয়াড়রাই থাকছেন।

নেতৃত্বে থাকছেন রোস্টন চেজ, সহ-অধিনায়ক জোমেল ওয়ারিকান। অভিজ্ঞ পেসার কেমার রোচ, শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলস পেস আক্রমণ সামলাবেন। স্পিনে ভরসা ওয়ারিকান আর জশুয়া বিশপ।

সিরিজের গুরুত্বটাও কম নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ সিরিজ। পয়েন্ট তালিকায় তারা এখন আটে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করে অবস্থান বদলাতে চায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের হিসাব আরও বড়, চারে থাকা দলটির জন্য ফাইনালের পথে টিকে থাকতে ঘরের মাঠের  এই সিরিজে ভালো ফল দরকার। প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে, দ্বিতীয়টি ৫ নভেম্বর সিলেটে।

হোপ নেই, জোসেফও নেই। তবু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের নেই। কারণ ফাইনালের দৌড়ে এক ম্যাচের হোঁচটই অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।

Share via
Copy link