রামস পার্কের তীব্র গর্জন আর স্বাগতিক দর্শকদের কানফাটা আওয়াজ। ইস্তাম্বুলের এই পরিবেশ যেকোনো অভিজ্ঞ ফুটবলারের জন্যও এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের কাছে যেন এটি ছিল কেবলই আরেকটি মনোমুগ্ধকর পারফর্ম করার মঞ্চ।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে গালাতাসারের বিপক্ষে বার্সেলোনা ৪-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। আর পুরো ম্যাচে জুড়েই দুই অ্যাসিস্টসহ দাপুটে পারফরম্যান্সে জয়ের কারিগর ছিলেন ইয়ামাল।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা যে ১৫ মিনিটের বিধ্বংসী ঝড় তোলে, তার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন ইয়ামাল। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিং সামলাতে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে পিচের উইডথ ব্যবহার করে গালাতাসারের ডিফেন্সকে সম্পূর্ণ তছনছ করে দেন তিনি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে গালাতাসারে ডিফেন্স কিছুটা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললেও দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ইয়ামাল তাঁর খেলার ধরন পরিবর্তন করেন। টাচলাইনের কাছাকাছি গিয়ে ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে একের পর এক ডিফেন্ডারকে টেনে আনেন এবং হাফ-স্পেসে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন।
বিরতির পরপরই ৫০তম মিনিটে কর্নার থেকে ইয়ামালের ইন-সুইঙ্গিং শটে বক্সে লাফিয়ে উঠে হেডার দিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফারমিন লোপেস। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৫৩তম মিনিটে আবারও ইয়ামালের কারিশমা দেখতে পায় ফুটবল বিশ্ব। ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে পরাস্ত করে বক্সের ভেতর পাস বাড়ান তিনি, যা থেকে ডান পায়ের শটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অ্যান্থনি গর্ডন।
গালাতাসারেকে তাদের নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে হারিয়ে চলতি সিজনে টানা দশ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পাশাপাশি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যাক-টু-ব্যাক জয় সুনিশ্চিত করল ব্লগ্রানারা। দলের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার পেছনে নিয়মিত বড় প্রভাব রেখে চলছেন ইয়ামাল। এত অল্প বয়সেও মাঠে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা, পাসিং ভিশন এবং প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও শান্ত থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।












