উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক রূপকথার মঞ্চে। নিজের সাবেক ক্লাব রোমার মাঠে নেমে ডাগআউটে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহো। রক্ষণভাগের ভুলত্রুটি আর রোমার সুশৃঙ্খল কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের মুখে পড়ে ম্যাচের একটি বড় সময় খাদের কিনারায় ছিল তাঁর দল। একপর্যায়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ সাত মিনিটের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ম্যাচটি ৪-৩ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই রোমা কোচ একটি সুসংহত ব্লক ডিফেন্স ব্যবহার করেন, যা রিয়ালের মিডফিল্ড এবং ফরোয়ার্ড লাইনের সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ২০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে মার্টেন ডে রুন গোল করে রোমাকে এগিয়ে দেন।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডনিয়েল মালেন ৫০ ও ৫৭ মিনিটে রিয়ালের হাই-লাইন ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত দুটি কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে গোল আদায় করে ব্যবধান ৩-১ করেন। রিয়ালের সেন্ট্রাল ডিফেন্স ও ফুলব্যাকদের মাঝখানের স্পেসগুলো নিখুঁতভাবে কাজে লাগায় রোমার ফরোয়ার্ডরা। বলের দখল থাকলেও প্রথমার্ধে রিয়ালের আক্রমণে গতি ও ধার উভয়ই কম ছিল।

রোমার ডিফেন্সিভ ব্লকের সামনে যখন রিয়াল খেই হারাচ্ছিল, তখন ২৪ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের ব্যক্তিগত স্কিল সমতায় ফিরিয়েছিল মাদ্রিদকে। তবে রোমার সুশৃঙ্খল ডিফেন্স ও মিডফিল্ড কমপ্যাক্টনেস রিয়ালের মাঝমাঠের ক্রিয়েটিভিটি আটকে রাখে দীর্ঘ সময়। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে মরিনহোর ট্যাকটিকাল পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে। তাঁর গেম ম্যানেজমেন্ট এবং নিখুঁত সাবস্টিটিউশনই রিয়ালের ভাগ্য বদলে দেয়।
৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়াল ম্যানেজার মরিনহো বেঞ্চ থেকে আর্দা গুলের, এন্ড্রিক এবং কার্লোস এস্পির মতো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের মাঠে নামান, যা খেলার মোমেন্টাম পুরোপুরি পাল্টে দেয়। মাঠে নামার পর থেকেই তারা রোমার ডি-বক্সে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন।
৮৩ মিনিটে এস্পির গোল রিয়াল শিবিরে আশার আলো জ্বেলে দেয়। ঠিক এর দুই মিনিট পর ৮৫ মিনিটে গুলেরের অ্যাসিস্টে তরুণ সেনসেশন এন্ড্রিক গোল করে স্কোরলাইন ৩-৩ সমতায় নিয়ে আসেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে কর্নার হতে আসা ক্রস থেকে জয়সূচক গোলটি করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রোমার পকেটেই ছিল, কিন্তু হোসে মরিনহোর ট্যাকটিকাল গভীরতা, সময়োপযোগী বদলি খেলোয়াড় নামানো এবং শেষ মুহূর্তের মানসিক দৃঢ়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। রোমা দীর্ঘ সময় নিজেদের পজিশনিং ও কাউন্টার-অ্যাটাক নিখুঁত রাখলেও, ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে রিয়ালের ডাইনামিক বদলি খেলোয়াড়দের সামলাতে ব্যর্থ হয়। অলিম্পিকোর দর্শকরা সাক্ষী হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক কামব্যাক নাটকের।











