শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

এক হাতে লাল-সবুজের পতাকা, অন্য হাতে সাফের রৌপ্যদীপ্ত ট্রফি। গ্যালারিজুড়ে গগনবিদারী উল্লাস, আর হাজারো কণ্ঠে উচ্চারিত একটি নাম, জামাল ভূঁইয়া! বাংলাদেশের ফুটবলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কোনো মহাকাব্যের সমাপ্তি যদি এমন দৃশ্যপটে রচিত হয়, তবে তার চেয়ে আবেগঘন বিদায়ের উপাখ্যান আর কী হতে পারে?

কিছু নাম কেবল পরিসংখ্যানের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা হয়ে ওঠে একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি, সংগ্রামের প্রতীক, প্রত্যাশার অনিবার্য অনুষঙ্গ। জামাল ভূঁইয়া বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের তেমনই একটি নাম। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পথপরিক্রমা, অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব এবং লাল-সবুজের জার্সিতে অসংখ্য উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন এই ফুটবলার! সময়ের আবর্তে প্রতিটি অধ্যায়ের যেমন পরিসমাপ্তি আসে, তেমনি একদিন থামতে হয় জাতীয় দলের জার্সিতে পথচলাও। সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি তাই ক্রমেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে, আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপই কি হতে পারে জামাল ভূঁইয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়বেলা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে প্রথমবার এসেছিলেন ২০১১ সালে। ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হয় হাজার মাইল দূরের ডেনমার্কে। কিন্তু ব্যর্থতা তাঁর স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটাতে পারেনি। দুই বছর পর আবারও ফিরে আসেন। ২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট নেপালের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেই বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় বাংলার ফুটবলের এই পোস্টার বয়ের।

কল্পনা করা যাক, সাফের ফাইনাল। গ্যালারির প্রতিটি প্রান্তে লাল-সবুজের ঢেউ। লাখো হৃদয়ের সম্মিলিত প্রত্যাশা তখন একটি ট্রফিকে ঘিরে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ল গোটা দেশ। বাংলাদেশের ফুটবলারদের হাতে উঠল বহু আরাধ্য শিরোপা। আর সেই বিজয়োল্লাসের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে জামাল ভূঁইয়া, সতীর্থদের আলিঙ্গনে, সমর্থকদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত। এমন একটি দৃশ্য কি বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে না?

জামাল ভূঁইয়ার বয়স এখন ৩৬! আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি এখনো না নিলেও, তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে, যখন নিয়মিত একাদশেই জায়গা হচ্ছে না দীর্ঘদিনের এই অধিনায়কের, তখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক; জাতীয় দলে তাঁর ভবিষ্যৎ কোন পথে? অবশ্যই, বয়স নয়, বরং বর্তমান পারফরম্যান্স, শারীরিক সক্ষমতা, দলের প্রয়োজন এবং নিজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত তাঁর ভবিষ্যৎ। তবু বাস্তবতা যখন এমন, তখন বাংলাদেশের ফুটবল কি তার দীর্ঘদিনের পরিচিত এই মুখকে বিদায় জানানোর উপযুক্ত সময়ের মুখোমুখি? নাকি এখনো বাকি আছে লাল-সবুজের জার্সিতে তাঁর গল্পের আরও কিছু অধ্যায়?

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link