ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

কেউ ব্যাট হাতে রচনা করেন রানের মহাকাব্য, কেউ গতির ঝড়ে ভাঙেন প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ, আবার কেউ বাউন্সের বিষে নীল করেন ব্যাটিংয়ের স্বস্তি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তানের রহমত শাহ, বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ও জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি হতে পারেন নিজ নিজ দলের তুরুপের তাস। তিন ক্রিকেটারের রোল আলাদা, শক্তি সামর্থ্যের জায়গাও আলাদা, তবে সামর্থ্যের স্ফুরণ ঘটাতে পারলে তাঁরাই হয়ে উঠতে পারেন মাঠের লড়াইয়ের অন্যতম নিয়ামক। তাঁদের দিকে তাই নজর থাকবে আলাদাভাবেই।

ধৈর্য, প্রজ্ঞা আর নিখুঁত টাইমিং, রহমত শাহের ব্যাটিংয়ের মূল পুঁজি। অযথা ঝুঁকি এড়িয়ে ইনিংসের ভিত গড়া এবং সুযোগ বুঝে রানের গতি বাড়ানোয় তাঁর দক্ষতা প্রশংসনীয়। মাস দুয়েক আগেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অপরাজিত ১৪৩ রানের ইনিংস তাঁর সামর্থ্যের উজ্জ্বল স্বাক্ষর। ১৩৩ বলের সেই ইনিংসে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কার পাশাপাশি সেদিকউল্লাহ আতালের সঙ্গে তাঁর ২০১ রানের জুটি আফগানিস্তানের ব্যাটিং দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। ত্রিদেশীয় সিরিজে কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস সামলানো কিংবা বড় সংগ্রহের ভিত নির্মাণ, দুই ক্ষেত্রেই রহমত হয়ে উঠতে পারেন আফগানদের নির্ভরতার প্রতীক।

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

উচ্চতা আর বাউন্সের যুগলবন্দিতে ব্লেসিং মুজারাবানি ব্যাটারদের সামনে হাজির করেন কঠিন পরীক্ষা। তাঁর হাত থেকে ছুটে আসা বল পিচে পড়ে যে উচ্চতায় উঠে আসে, তা ব্যাটারের স্বস্তির পরিসর সংকুচিত করে হরহামেশাই! তবে শুধু বাউন্স নয়, সঠিক লাইন-লেংথ ও গতির নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগই হবে তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি। শুরুতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে আঘাত হানতে পারলে মুজারাবানি হয়ে উঠতে পারেন জিম্বাবুয়ের সেরা ভরসা। যদিও গত সিরিজে অজি ব্যাটারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতেই দেখা গিয়েছে তাকে। তবে জুলাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ভুগিয়েছিলেন তিনি, পেয়েছিলেন চার উইকেট। মরুর বুকে ত্রিদেশীয় সিরিজে এই তিনের নৈপুণ্য হয়ে উঠতে পারে বাড়তি আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত কে নিজের সামর্থ্যের সবচেয়ে কার্যকর প্রয়োগ ঘটাতে পারেন, তা নির্ধারণ করবে মাঠের লড়াই!

 

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link