ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানের প্রথম ম্যাচ, জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয়। আগের ম্যাচ জিতে জিম্বাবুয়ে এগিয়ে আছে, তাই সমীকরণটা এখন আফগানিস্তান আর বাংলাদেশকে ঘিরে। এগিয়ে থাকতে হলে সবচেয়ে সহজ পথ টস জিতে ব্যাট করে বড় স্কোর দাঁড় করানো, আর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সেই ভার কাঁধে তুলে নিলেন ইব্রাহিম জাদরান।
শুরুটা ছিল একেবারে ধীরস্থির। নতুন বলে মুজারাবানির গতি আর ইভান্সের নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে তাড়াহুড়ো করলেন না। বল ছেড়ে দিলেন, ঠেলে দিলেন ফাঁকা জায়গায়, আর বুঝে নিলেন উইকেটের মেজাজ। সঙ্গী গুরবাজ ছিলেন ঝড়ের মেজাজে, ২০ বলে ২৫ করে বোল্ড হলে ৫০ রানের জুটি ভাঙল, তখনও জাদরানের রান ২৩ বলে ২৩।
উইকেট পড়ার পর অনেক ব্যাটারই চাপে এলোমেলো হয়ে যান, জাদরান বরং আরও গুছিয়ে নিলেন নিজেকে। অটলকে পাশে নিয়ে সিঙ্গেল আর ডাবলে ইনিংস সাজাতে থাকলেন, আর বাজে বল পেলেই দিলেন উচিত শাস্তি।

ফিফটি এল ৪৮ বলে, একটা সিঙ্গেল নিয়ে। ব্যাট তুলে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, তারপর আবার ফিরে গেলেন নিজের ছন্দে। আটালের সঙ্গে জুটি যখন একশো পার করল, তাঁর রান তখন ৭৫। বার্ল আর মাদেভেরের স্পিনের সামনেও কোনো অস্বস্তি দেখা গেল না, হাঁটু গেড়ে বসে পুল করলেন, ড্রাইভ করলেন কভারের ফাঁক দিয়ে। এভাবে ধীরে ধীরে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে গেলেন। সেঞ্চুরিটা এবার ধরা দিল না, কিন্তু দলের যা দরকার ছিল, ইনিংসের সেই শক্ত ভিতটা তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন।
জাদরানকে আলাদা করে চেনায় তাঁর ধারাবাহিকতা। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে খোস্তে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটার ওয়ানডেতে ৪৬ ম্যাচে করেছেন সাতটি সেঞ্চুরি, গড় প্রায় ৪৯, সর্বোচ্চ ১৭৭। আর রানগুলো শুধু দুর্বল দলের বিপক্ষে আসেনি। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছেন ১২৯, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ১৬২ রানের ইনিংস যা তাঁকে সিরিজসেরা বানিয়েছিল, আর চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছেন ঠিক একশো। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, তাঁর ব্যাট একই ভঙ্গিতে কথা বলে। কিছু ব্যাটার শিরোনাম কাড়েন, কিছু ব্যাটার ম্যাচ জেতান, আর জাদরান নিশ্চিতভাবেই দ্বিতীয় দলের মানুষ।











