বয়স লুকানোর বিপদ

আধুনিক ক্রিকেটে বয়স বেশ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আজকাল ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ক্রিকেটারকেই বয়স লুকাতে দেখা যায়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে যা এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে বয়স ভিত্তিক দলের অনেক ক্রিকেটার প্রতিভা থাকার পরেও বাদ পড়ে যেতে পারেন।

ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার রাহুল দ্রাবিড় একবার এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ভারতের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এই ব্যাপারে বেশ কঠোর। বয়স লুকানোর দায়ে কয়েকজন ক্রিকেটারকে সাময়িক নিষিদ্ধও করেছে তাঁরা। বয়স লুকানোর দায়ে শাস্তি পাওয়া ভারতের সেইসব ক্রিকেটারদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • প্রিন্স রাম নিবাস যাদব

দিল্লির ক্রিকেটার রাম নিবাস বয়স লুকানোর দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০১৮–১৯ মৌসুমে অনূর্ধ্ব–১৯ দলের হয়ে খেলেন তিনি। ২০১৯–২০ সালেও অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলতে গেলে বিপাকে পড়েন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে পরে বয়স লুকানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়। শেষে দুই বছরের জন্য তাঁকে নিষিদ্ধ করে ভারতের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)।

  • আঙ্কিত বাওনে

ভারতের আরেক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার আঙ্কিত বাওনে। ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়কও ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁকে। তবে পরে শেষ মুহূর্তে তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয়। জানা যায় তিনিও ‘অফিশিয়ালি’ তাঁর বয়স কমিয়েছিলেন খেলার জন্য। তাঁর আসল জন্ম তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ হলেও রেকর্ডে ছিল ১৭ ডিসেম্বর ১৯৯২। ফলে আর অধিনায়কত্ব করা হয়নি তাঁর।

  • রাশিখ সালাম

জাম্মু কাশ্মীরের প্রতিভাবান পেস বোলার রাশিখ সালাম। ২০১৯ সালের আইপিএলেও মুম্বাইয়ের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট এ ম্যাচও খেলেছেন তিনি। তবে আইপিএল খেলার এক মাস পরেই তিনিও বয়সের ফাঁদে পড়েন। এই ক্রিকেটারও বয়স লুকানোর দায়ে হয়েছিলেন নিষিদ্ধ।

  • মাঞ্জোত কারলা

ভারতের ক্রিকেটে মাঞ্জোত কারলা এক পরিচিত নাম। ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তবে পরে জানা যায় তিনিও তাঁর বয়স লুকিয়েছিলেন এক বছর। এই কারণে ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ হন তিনিও।

  • নিতিশ রানা

ভারতের ক্রিকেটে এক প্রতিভাবান নাম নিতিশ রানা। ভারতের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই অভিষিক্ত হয়েছেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) এক আস্থার নাম তিনি। কলকাতার হয়ে খেলেছেন দারুণ সব ইনিংস। তবে ২০১৫ সালে তিনিও বয়স লুকানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁকে নিষিদ্ধও করেছিল বিসিসিআই। তখন, অবশ্য আজকের দিনের মত তারকা বনে যাননি নিতিশ।

লেখক পরিচিতি

আমার ডায়েরির প্রতিটা পৃষ্ঠাই আমার বাইশ গজ।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link