হ্যারি ব্রুক সেদিনের ভিভ রিচার্ডস হতে পারতেন কি? প্রশ্নের উত্তর জানা গেল না। কারণ, তাঁর আগেই স্বয়ং কপিল দেব এসে ভর করলেন অক্ষর প্যাটেলের ওপর। ৪৩ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে পেছন দিকে দৌঁড়ে গিয়ে ‘বাপু’ যে ক্যাচটা ধরলেন সেটা লেখা হয়ে গেল ইতিহাসের পাতায়।
জাসপ্রিত বুমরাহর স্লোয়ার বলটা গায়ের জোরে খেললেন হ্যারি ব্রুক। ব্রিটিশ অধিনায়ক ক’দিন আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্যাটেল অক্ষরে অক্ষরে জানেন, এই উইকেটের মূল্য কত। অনেকটা পথ দৌঁড়ালেন, পেছনের দিকে, পয়েন্ট অঞ্চলে।
চোখ বলের দিকে রেখে তিনি শেষ মুহূর্তে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ লুফে নেন। গ্যালারিভরা দর্শকের সামনে তার এই অসাধারণ ক্যাচে মুহূর্তেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। গলার কাঁটা হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখা ব্রুক ফিরে গেলেন।

ঠিক সেই সময়ই স্মৃতিতে ফিরে এল ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনাল। লর্ডসের সেই ফাইনালে ভারতের করা ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখনও ম্যাচে দাপট দেখাচ্ছিল। ক্রিজে ছিলেন বিধ্বংসী ব্যাটার ভিভ রিচার্ডস, বলটাকে যিনি কেবল পেটাতেই জানেন। তাঁর ব্যাট থেকেই বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল ভারতের জন্য।
ঠিক তখনই বল হাতে এলেন মদন লাল। একটি শর্ট বলে রিচার্ডস স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পুল শট খেলেন। বল আকাশে উঠে যায় মিড-উইকেট অঞ্চলের দিকে।
সেখান থেকেই শুরু ইতিহাসের সেই দৃশ্য। মিড-উইকেট থেকে বলের পেছনে প্রায় ৩০ মিটার দৌড়াতে থাকেন কপিল দেব। বল তাঁর কাঁধের ওপর দিয়ে নেমে আসছিল। চোখ বলের ওপর রেখে দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত তিনি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ক্যাচটি তালুবন্দি করেন।

লর্ডসের গ্যালারি তখন স্তব্ধ—আর ভারতীয় শিবির উল্লাসে ফেটে পড়ে। কারণ, ওই ক্যাচেই থেমে যায় রিচার্ডসের ঝড়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এক মুহূর্তেই। এবারও ঠিক সেই একই কাজ করলেন অক্ষর প্যাটেল। কপিল দেব, আপনি কি দেখেছেন?










