একটা বিশ্বকাপ, একজন ক্রিকেটারের জীবনে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এক নিমিষেই শেষ হয়ে যেতে দেখেছেন সাইফ হাসান। কোমায় চলে যাওয়া যে দুজন ক্রিকেটারের কথা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, তাদের একজন যে ওই সাইফ।
টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েছিলেন ২০২১ সালে। তবে ঠিকঠাক নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বাদ পড়েছিলেন দল থেকে। পরের গল্পটা নতুনভাবে লিখতে গিয়ে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাঁকে। এক পর্যায়ে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়ে বসেছিলেন। তবে জীবন আবারও সুযোগ দিয়েছে তাঁকে।
প্রত্যাবর্তন করেন, সেটা আবার বীরদর্পে। এশিয়া কাপে দেখিয়েছিলেন নিজের জাতটা। নতুন স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিনক্ষণ যে ঠিক হয়ে গিয়েছিল তখনই। এরপর জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক বনে যান, বাংলাদেশ দলটাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়ে বড় মঞ্চের গৌরবমাখা গালিচায় হাঁটা তখন সময়ের অপেক্ষা।

তবে হঠাৎ সব থমকে গেল, বিশ্বকাপে যাওয়া হলো না বাংলাদেশের। জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ খেলার টিকিটটা এক দমকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল। ২৭ বছরের আরাধ্য সাধনার জলাঞ্জলি হতে সময় লাগল স্রেফ কয়েক সেকেন্ডে নেওয়া সিদ্ধান্তে। এমন সুযোগ যে সহজে আসে না।
মন ভাঙাটা স্বাভাবিক, স্কোয়াডে থাকা প্রতিটা খেলোয়াড়েরই এমনটা হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতিটা যে সাইফের। রীতিমতো কোমায় চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে সাইফ আবারও ফিরে আসতে পেরেছেন। শক্ত মানসিকতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে ভাঙাচোরা স্বপ্নের সীমাহীন ব্যথাটা।
অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে ছন্দে ফিরেছেন, চাপা কষ্ট নিয়েই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এটাই যে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হয়ে এসেছে। যে ইনিংসটা বিশ্বকাপে খেলার কথা, সেটাই কিনা খেলতে হলো সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আয়োজিত এক টুর্নামেন্টে। এর থেকে বড় ব্যথা কি আর আছে?

Share via:











