অপেক্ষার ফল সবসময় মিষ্টি হয় না, মাঝেমাঝে পঁচে যায়। এশিয়া কাপের জন্যে বাংলাদেশের প্রস্তুতির ফলও তেমনই হল। তৃতীয় ম্যাচ অবধি অপেক্ষার প্রহর গোনা ধূলিসাৎ করল সকল সম্ভাবনা। নেদারল্যান্ডসকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এক নিরর্থক সিরিজ জয় ব্যতীত বাংলাদেশের লাভের খাতা শূন্য। সময় গেলে সাধন হবে না, এখন আর লাভের খাতায় শূন্যের আগের এক যোগ করার উপায়ও নেই।
প্রথম দুই ম্যাচে টসে জিতে বোলিংয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। প্রস্তুতির মঞ্চে ব্যাটারদের প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে মনোযোগ দেওয়া হল সিরিজ জয়ের দিকে। নিজেদের বাজিয়ে দেখার জন্যে অপেক্ষা করা হল শেষ ম্যাচ অবধি। সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করল বটে বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে বরং পরিষ্কার হয়েছে সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা।
বৃষ্টির বাঁধায় বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেটুকু সময় ব্যাটিং করেছেন, তাতে অন্তত একটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়েছে- একাদশে তাওহীদ হৃদয়ের জায়গা হয়েছে নড়বড়ে। তার পরিবর্তে চাইলেই সাইফ হাসান কিংবা নুরুল হাসান সোহানকে একাদশে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে এশিয়া কাপে। তেমনটি না ঘটলে বরং ডাচ সিরিজের মাহাত্ম্য স্রেফ সিরিজ জয় পর্যন্ত।

এছাড়া আরও একটি বিষয় হয়েছে পরিষ্কার। সময়-সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশি ব্যাটারদের পক্ষে ২০০ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়া কিংবা তাড়া করা- প্রায় অসম্ভব। যতই হার্ড-হিটিং অনুশীলন করুক না কেন, মানসিকতার জড়তায় ওই ১৮০ অবধিই পৌঁছাবে দলের সংগ্রহ। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের।
সিলেটে শিশিরের প্রভাব ছিল ব্যাপক। আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের ম্যাচগুলোতেও শিশির হয়ে দাঁড়াতে পারে বিশাল বড় এক ফ্যাক্টর। সে পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বোলারদের ঠিক কি করতে হবে, তা শিখে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশ হেলায় হারাল- শুধু এক সিরিজ জিতবে বলে।
আরব আমিরাতের মাটিতে এই বছরই টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। সেই সিরিজেও বাংলাদেশের দুশমন হয়ে হাজির হয়েছিল শিশির। অতএব ম্যাচের সময়ে শিশিরের প্রভাবে মাঝে বল করা ও করণীয় ঠিক করার সুযোগ ছিল ডাচদের বিপক্ষে সিরিজে। কিন্তু সেই সুযোগ বাংলাদেশের বোলাররা পেলেনই না। যদিও এই অপ্রাপ্যতার অভাব ঘোচাতে বাংলাদেশ দল বল পানিতে ভিজিয়ে অনুশীলন করছে নেটে।

কিন্তু মূল ম্যাচ আর নেট অনুশীলনের ফারাকটা তো বিস্তর, আকাশ-জমিন। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সবগুলো টস জেতার সম্ভাবনা তো অর্ধেক। যে ম্যাচে হেরে গিয়ে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিং করবে, সেই ম্যাচে বোলারদের বেহাল দশার দায়টা সেদিন কে নেবে? দুই ম্যাচে ৯১ রান হজম করা শেখ মাহেদিই কেবল জানেন, শিশির ঠিক কতটা ভয়ংকর।
এমন অপর্যাপ্ত অনুশীলন বাংলাদেশকে ভোগাবে ভীষণভাবে। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে টানা তিন সিরিজ জয়ের ভেলায় ভেসে আকাশচুম্বী স্বপ্ন দেখা বরং হয়ে যাবে বাড়াবাড়ি। ‘প্রস্তুতির ঘাটতি’ নামক সেই ভাঙা ক্যাসেট আরও একবার বেজে উঠবে হয়ত। এখন শুধু সেদিনের অপেক্ষা কেবল।











