শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে শিরোপা আবাহনীর

বিতর্ক, সমালোচনা, অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা সব কিছু ছাপিয়ে শেষপর্যন্ত শেষ হলো ডিপিএলের এবারের আসর৷ আর শেষটা রাঙালো আবাহনী লিমিটেড।

ক্রিকেট পাড়ায় আবাহনী – মোহামেডানের ম্যাচ মানেই যেন ঐতিহ্যের লড়াই। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অঘোষিত এক ফাইনালের মুখোমুখি হলো শক্তিশালী দুই দল। তবে জিতলেই ফাইনাল সমীকরণে শেষ হাসিটা হাসলো আবাহনী লিমিটেড।

ক্রিকেটের লড়াইয়ে আগের মতো উত্তেজনা নেই, কম্পিটিশনটাও জমে না ঠিকঠাক। তবুও দিনশেষে আবাহনী – মোহামেডানের লড়াইটা আত্মমর্যাদার, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার। টসে জিতে আবাহনী অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বোলিং করা। মোহামেডানের ইনিংস শুরু করতে আসেন রনি তালুকদার এবং তৌফিক খান তুষার।

বিগ ম্যাচে দুর্দান্ত সূচনা দুই ওপেনারের। তবে ৫০ রানের মাথায় তুষার ফিরে গেলে এরপর যেন ছন্দপতন হয় মোহামেডানের। রনি তালুকদার ৪৫ রানে ফিরলে মোমেন্টামটা তখন আবাহনীর হাতে।

১২৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে যখন বিপাকে মোহামেডান, হালটা ধরেন মাহমুদউল্লাহ এবং আরিফুল। দুজনেই তুলে নেন ফিফটি। তাদের ব্যাটিংয়ের উপর ভর করে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহটা দাঁড়ায় ২৪০ রানের।

আবাহনীর ছন্দে থাকা ব্যাটিং লাইনআপে শুরুতেই ভয় ধরিয়ে দেন ইবাদত। দলীয় ২ রানের মাথায় শাহরিয়ার কোমল ফিরে গেলে লড়াইটা জমে ওঠে। তবে জিসান আলমের ৫৩ বলে ৫৫ রানের ইনিংস আবাহনীকে শক্ত অবস্থানে রাখে।

১০৮ রানে জিসান ফিরে গেলে চার উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকেই পড়ে আবাহনী। তবে পরের গল্পটা লেখেন ক্যাপ্টেন মোসাদ্দেক এবং মোহাম্মদ মিঠুন। মোসাদ্দেকের ৬৫ বলে ৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংস, সেই সাথে মিঠুনের ৭৯ বলে ৬৬ রানের সাপোর্টিভ রোল শেষ পর্যন্ত সহজ করে দেয় আবাহনীর ম্যাচ। অঘোষিত ফাইনালে মোহামেডানকে ছয় উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী।

বিতর্ক, সমালোচনা, অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা সব কিছু ছাপিয়ে শেষপর্যন্ত শেষ হলো ডিপিএলের এবারের আসর৷ আর শেষটা রাঙালো আবাহনী লিমিটেড।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link