এসেছে নতুন শিশু ছেড়ে দিতে হবে স্থান। লিওনেল মেসি, ডি মারিয়ারাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে। তাদের পরিবর্তনে তরুণ কাওকে নিতে হবে দায়িত্ব। ডি মারিয়া যেন নিজের ব্যাটন এগিয়ে নেওয়ার জন্যে পেয়ে গেছেন যোগ্য উত্তরসূরী।
থিয়েগো আলমাদা হুট করেই যেন আলোচনায় এই নাম। আর্জেন্টিনার ভক্তদের কাছে অবশ্য তিনি পূর্ব পরিচিত। ওই যে ২০২২ সালে লিওনেল মেসি যেবার পেলেন অমরত্ব। সেবারও তো দলে ছিলেন আলমাদা। অবশ্য সেই বিশ্বকাপের স্পটলাইটে আলমাদার থাকার কথা নয়। তিনি যে খেলেছেনই মোটে ছয় মিনিট।
তবে ২০ বছর বয়সে তিনি সাইডবেঞ্চে বসে অবলোকন করে গেছেন, এক অতিমানবের অমরত্ব লাভের গোটা পথ। সামনে থেকে দেখেছেন এক লিও মেসির জন্যে কি করে উন্মত্ত দানবে পরিণত হয় গোটা দল। মনের গভীরে আলমাদা হয়ত অমরত্ব না হোক, শ্রেষ্ঠত্ব লাভের সুপ্ত বাসনার বীজ বপন করেছিলেন।

তবে সেই বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগই যেন পাচ্ছে না। বিশাল সব বৃক্ষের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে প্রতিবার। তবুও তিনি যখনই সুযোগ পেয়েছেন মাথা চাড়া দিতে চেয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে সাত ম্যাচ খেলে আদায় করেছেন তিন গোল। অথচ তিনি কিন্তু একজন পুরোদস্তুর মিডফিল্ডার।
নিজেকে প্রমাণে তীব্র ক্ষুধা রয়েছে আলমাদার। তাইতো উইংয়েও খেলতে পারেন তিনি। আর তার নিজের ছাপ ফেলে রাখার বাসনা প্রমাণিত হয় তার খেলা গেমটাইম দেখলেই। সাত ম্যাচের মধ্যে সর্বসাকুল্যে ২৪৯ মিনিট খেলেছেন তিনি। সময়ের হিসেবে তিন ম্যাচও খেলেননি তিনি। এরই মধ্যে তিনখানা গোল নিজের করে নিয়েছেন আকাশী নীল জার্সিতে।
তবে তিনি এক বিচিত্র চরিত্র। তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরুর দিকে খেলছেন মেজর লিগ সকারে। সাধারণত আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের উত্থান হয় নিজ দেশে কিংবা ইউরোপের কোন ক্লাবে। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে তারা পাড়ি জমান আমেরিকার পথে। কিন্তু আলমাদা হাঁটছেন উলটো পথে।

তিনি যেন একটা উদাহরণই সৃষ্টি করতে চান। ভিন্ন পথে হেটে দুনিয়াকে দেখাতে চান সবাইকে একই পথে হাটতে হবে তেমন তো কোন কথা নেই। ব্রাজিলের বিপক্ষে সুপার ক্লাসিকোতে তিনি থাকবেন জাতীয় দলের স্কোয়াডে। চিরপ্রতিদ্বন্দীদের বিপক্ষে নজর কাড়তে চাইবেন তিনি।
উরুগুয়ের বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন গোলে তাকে ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে সর্বত্র। এখন ব্রাজিলের বিপক্ষে কিছু একটা করতে পারলেই জাতীয় দলে তিনি হয়ে উঠবেন নিয়মিত। মুখিয়ে রয়েছে আলমাদা। পারবেন তো ব্রাজিলের বিপক্ষে দেখাতে নিজের সক্ষমতা?











