বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা। ভারতের সবচেয়ে বড় দুই শিল্পের প্রসিদ্ধ দুই শিল্পী। একজন পর্দার, একজন ক্রিকেটে মাঠে। দুজনই নিজেদের পেশাগত জীবনে শীর্ষে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনে এমন এক প্যারেন্টিং দর্শন তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক পরিবার ব্যবস্থার যে কেউ তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছেন, অভিভাবক হওয়ার পর তাদের গোটা জীবন ব্যবস্থাই যেন বদলে গেছে। আগে যেখানে পেশাদার জীবন কিংবা নিজেদের গ্ল্যামার ছিল অগ্রাধিকার, এখন সেখানে সমান গুরুত্ব পায় পরিবারও। বিষয়টিকে তারা মোটেই ত্যাগের মতো করে দেখেননা, বরং জীবনকে জীবনের মতো করেই যেন মানিয়ে নেন।
কিডস স্টপ প্রেসে প্রকাশিত এক আলোচনায় আনুশকা বলেন, তাদের পরিবারের ভিত্তি হলো ভালোবাসা। সেই সঙ্গে তাঁরা গুরুত্ব দেন মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও। তাঁরা চান না সন্তান আদুরে বা দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে বড় হোক। তাদের কাছে সাফল্যের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো চরিত্র গঠন।

তিনি বলেন, ”আমরা এটাকে মা কিংবা বাবার আলাদা দায়িত্ব হিসেবে দেখি না, বরং পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের সন্তান যেন সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় হয়।”
বাবা হিসেবে বিরাটের ভূমিকা পরিবারের প্রতি তাঁর ডেডিকেশন দেখলেই স্পষ্টত হয়। বিশেষ করে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি বেশ দৃঢ়। অন্যান্য সব সেলিব্রিটি যেখানে পরিবারের সদস্যদেরকেও এক প্রকার সেলিব্রিটি বানাতে ব্যতিব্যস্ত। বিরাট সেখানে সম্পূর্ণই ব্যাতিক্রম ।
বিমানবন্দরে একবার মিডিয়া তাঁর পরিবারকে ভিডিও করতে গেলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ”আমার বাচ্চাদের সঙ্গে থাকলে আমার কিছুটা প্রাইভেসি দরকার। ওরা আমার সাথে থাকলে আমার অনুমতি ছাড়া ভিডিও করবেননা।”

এনডিটিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে আনুশকা বলেছিলেন, সন্তানদের বেড়ে ওঠা নির্ভর করে বেড়ে ওঠার পরিবেশের ওপর। তাঁরা সন্তানদের এমন পরিবেশ দিচ্ছেন, যেখানে নিজেকে খুব বড় বলে মনে হবে না। ব্যবহারে পরিলক্ষিত হবে সততা ও বিনয়।
সেক্ষেত্রে বিরাট থেকেও যথেষ্ট সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়ার কথা বলেন আনুশকা। একার পক্ষে যে কাজটা কঠিন কিংবা গুরুদায়িত্ব, যৌথভাবে তা পালন করলে যেন সেটা চ্যালেঞ্জ নয় বরং মনে হয় জীবনেরই একাংশ।










