আলভারেজ-আলমাদা ম্যাজিকে আর্জেন্টিনার প্রতিশোধ

লিওনেল মেসি নেই, ম্যাজিক কি তাই বলে দেখা যাবে না? জুলিয়ান আলভারেজ সেটা বোধহয় মানতে পারেননি, সেজন্য মেসির অনুপস্থিতিতে নিজেই বল পায়ে জাদুকর হয়ে উঠতে চেয়েছেন। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটাতে তাঁকে ছাড়িয়ে গিয়ে নায়ক বনে গিয়েছেন থিয়াগো আলমাদা। 

লিওনেল মেসি নেই, ম্যাজিক কি তাই বলে দেখা যাবে না? জুলিয়ান আলভারেজ সেটা বোধহয় মানতে পারেননি, সেজন্য মেসির অনুপস্থিতিতে নিজেই বল পায়ে জাদুকর হয়ে উঠতে চেয়েছেন। তবে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটাতে তাঁকে ছাড়িয়ে গিয়ে নায়ক বনে গিয়েছেন থিয়াগো আলমাদা।

একটা মুহূর্তের ব্যাপার ছিল কেবল, চোখের পলকে দর্শকদের বিস্মিত করে দিয়েছেন আলমাদা। লেফট উইং ধরে ড্রিবল করে আলভারেজ পাস দেন তাঁকে, ডি বক্স থেকে তখনো কয়েক গজ দূরে তিনি।

কিন্তু কিসের কি, ওখানে দাঁড়িয়েই শট নিলেন এই ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক সার্জিও রচেট লাফ দিয়েও ঠেকাতে পারেননি। অবিশ্বাস্য একটা গোল, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এমনিতে কি আর জিদান ভঙ্গিতে হাত নাড়ান?  – আর এই একটা গোলের সুবাদে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এর মধ্য দিয়ে আগের দেখায় হারের প্রতিশোধও নেয়া হলো তাঁদের।

লিওনেল মেসির না থাকার কথা তো আগেই বলা হয়েছে, এদিন ছিলেন না ইনফর্ম লাউতারো মার্টিনেজও। ৪-৩-৩ ফরমেশনে শুরু করলেও আর্জেন্টিনা তাই প্রথমার্ধে খানিকটা ডিফেন্সিভ ছিল, অফ দ্য বলে তাঁদের ৪-৫-১ ফরমেশনে দেখা গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে তাঁরা, উইং ধরে উঠে পরীক্ষা নিতে শুরু করে স্বাগতিক রক্ষণের।

অন্যদিকে জুলিয়ান আলভারেজ নাম্বার নাইন পজিশনে খেললেও অনেকটা সেকেন্ড স্ট্রাইকারের ভূমিকায় ছিলেন; গোল করার চেয়ে বরং করানোর দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি। নিজে একটা শট নেয়ার বিপরীতে চারটা গোলের সুযোগ তৈরি করা সেটারই প্রমাণ দেয়।

তিনমাস পর মাঠে নেমে আর্জেন্টিনা স্বস্তি নিয়েই বাড়ি ফিরেছে, ব্রাজিল ম্যাচের আগে এ জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিবে তাঁদের।

তবে মেসির অভাব বোধহয় এত দ্রুত মুছে ফেলা যাবে না, উরুগুয়ের বিপক্ষে দলটার ফরোয়ার্ড এবং মিডফিল্ডের মাঝে একটু হলেও সমন্বয়হীনতা ছিল। তাছাড়া আলভারেজ নিচে নেমে খেলা বিল্ডআপ করায় প্রোপার গোল স্কোরারের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেলেসাওদের বিপক্ষে খেলার আগে এসব নিয়ে নিশ্চয়ই কাজ করবেন কোচ স্কালোনি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link