আয়ুশ মাহত্রে, অকুতোভয় এক কিশোর

সেই ১৭ বছরের ছোকড়া সময়ের সেরা ব্যাটারদের সামনে দাঁড়িয়ে দেখালেন প্রতিভার ঝলক। এরপর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি।

ইশ! সেঞ্চুরিটা পাওয়া হল না। কিন্তু তার উইকেট লুফে নেওয়ার পর ব্যাঙ্গালুরুর উচ্ছ্বাসই বলে দেয়- আয়ুশ মাহত্রে কতটা দুশ্চিন্তার উত্তাপ বাড়িয়েছেন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। ১৭ বছর বয়সেও বিরাট কোহলিদের কপালের ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছেন। সেঞ্চুরিটাও করতে চেয়েছিলেন ছক্কা হাঁকিয়ে। আউট হয়েছেন, তাতে অবশ্য বদলে যায় না ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের হাইলাইটস।

বিস্ময়ের কারখানায় পরিণত হয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। নিত্য-নতুন তরুণ নয়, ভেল্কি দেখাচ্ছেন কিশোররা। সেই ধারাতে যুক্ত হয়েছেন আয়ুশ মাহত্রে। মৌসুম শুরুর আগেও তিনি ছিলেন না চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোয়াডে। মাঝপথে রুতুরাজ গায়কড় ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে ছিটকে গেলেন পুরো টুর্নামেন্ট থেকে।

এমন সময় কতশত অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নাম ভেসে বেড়িয়েছেন আইপিএল পাড়ায়। চেন্নাইয়ের রয়েছে অভিজ্ঞতা প্রীতি। কিন্তু খানিকটা অবাক করে দিয়ে ১৭ বছরের এক ছোকড়াকে নেওয়া হল স্কোয়াডে। মৌসুমের মাঝপথে খেলতে নেমেই নিজের অভিষেক ম্যাচেই একটা বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন, মাত্র ১৪ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে।

সেই ১৭ বছরের ছোকড়া সময়ের সেরা ব্যাটারদের সামনে দাঁড়িয়ে দেখালেন প্রতিভার ঝলক। এরপর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। অর্ধশতকটা, শতক হলেও হতে পারত। ৯৪ রানে থামতে হয়েছে তাকে।

স্রেফ ৪৮ বলের এই ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছিলেন নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কায়। প্রায় দুইশর কাছাকাছি স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করছিলেন আয়ুশ মাহত্রে। মনের ভেতর নেই কোন সংশয়, নেই কোন ভয়ের উপস্থিতি। আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রায় প্রতিটি শট চালিয়েছেন। রান তুলেছেন, দলের জয়ের আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

১৭ বছর বয়স অনুযায়ী চাপের মুখে এমন নির্ভার ও নির্ভীক থাকা মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়। বছরের পর বছর ধরে চালানো অধ্যাবসায় আর পরিশ্রমের ফসলে জন্ম নেয়। সেসব যেন জন্ম থেকেই আয়ুশের মাঝে বিরাজমান। ১৮ বছর বয়স মানে না কোন বাঁধা, থাকে অকুতোভয়, ১৮-তে পা দেওয়ার আগেই আয়ুশ দেখাচ্ছেন মুন্সিয়ানা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link