থমকে গেছে ব্যাটের শব্দ, থেমে গেছে বোলারের দৌড়। গ্যালারিতে নেই সেই চিরচেনা উত্তেজনা। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ বয়কট করায় সুদীর্ঘ প্রায় চার মাসের জন্য লাল- সবুজের জার্সি গায়ে ক্রিকেট আঙিনায় উচ্চারিত হবে না ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ তাদের সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। কে জানত পরবর্তী ম্যাচ দেখতে প্রহর গুনতে হবে দীর্ঘ চার খানা মাসের। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ মার্চে পাকিস্তানের সাথে, তবে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের ফলে সেই সিরিজও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
খেলোয়াড়দের নিয়ে তাই বিকল্প ভাবনা ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। লাল-সবুজের জার্সিটা গায়ে জড়ানো না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়ে খেলোয়াড়দের ও দর্শকদের ক্রিকেট শূন্যতা কিছুটা হলেও কাটাতেই এই উদ্যোগ বিসিবির।

বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় বিসিবির প্রাথমিক পরিকল্পনায় ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে একটি আঞ্চলিক রাইজিং স্টার টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনা। ডিসেম্বর মাসের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান। তবে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই বয়সভিত্তিক পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে যেতে পারে।
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বয়সসীমা তুলে দিয়ে সবাইকে নিয়েই একটি ছোট পরিসরের টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনাও আলোচনায় আছে। বাংলাদেশের পরবর্তী সিরিজ ও আইসিসি ইভেন্ট ওয়ানডেতে হওয়ায় টুর্নামেন্টটিও ওয়ানডে ফরম্যাটে আয়োজনেরই পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফিস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ সময়টায় খেলোয়াড়দের ফিট রাখার জন্য আরও অন্যান্য বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অবশ্যই আদর্শ নয়। কিন্তু খেলোয়াড়দের মাঠের মধ্যে রাখার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। দুই-তিন দিনের মধ্যেই কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে।’
তবে আপাতত জাতীয় নির্বাচনের দিকেই চোখ দেশবাসীর। নির্বাচনের আগে কোনো প্রকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন পরবর্তী সময়েই একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে বিসিবি।










