রিপন মণ্ডল যেন বাংলাদেশের প্রাণ ফেরালেন, স্বপ্ন বাঁচালেন। সুপার ওভারে ভারতকে গুড়িয়ে দিলেন একা হাতে। আর তাতেই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই, টান টান উত্তেজনা পর্ব শেষে জয়ের হাসি হাসল বাংলাদেশ। সুপার ওভারে ভারতকে হারাল আকবর আলীর দল। সেই সাথে ফাইনালের মঞ্চে প্রথমবারের মতো পা রাখল বাংলাদেশ।
শেষ দুই ওভারে ভারতের দরকার ২১ রান। চার উইকেট হারানো ভারতের জেতাটা তখন সময়ের অপেক্ষা। তবে দূরে চলে সম্ভাবনাটাকে টেনে নিয়ে এলেন রিপন মণ্ডল। ১৯তম ওভারে বল হাতে খরচা করলেন মোটে পাঁচ রান। সেই সাথে তুলে নিলেন রামানদ্বীপ সিংকে। আর তাতেই ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ।
শেষ ওভারে ১৬ রানের সমীকরণ। বল হাতে রান আটকানোর দায়িত্ব পড়ল স্পিনার রাকিবুলের কাঁধে। প্রথম দুই বলে সিঙ্গেল আসল বটে, তবে তৃতীয় বলে আসুতোসের কাছে ছক্কা হজম করতে হলো তাঁকে। পরের বোলে জিসান আলমের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হলো, সেই সাথে এলো আর চার রান। অর্থাৎ দুই দলে তখন দরকার চার রান।

আসুতোশকে বোল্ড করে রাকিবুল আরও একবার বাঁচিয়ে তুললেন বাংলাদেশের সম্ভাবনা। নতুন ব্যাটার লং অনে ঠেলে দিয়ে বড্ডজোর আদায় করতে পারতেন এক রান। ভুলটা করলেন আকবর আলী, স্টাম্প লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলেন বল, তবে তা কাঙ্কিত লক্ষ্যে আঘাত হানল না। ব্যস, ভারত তুলে নিল তিন রান, ফলাফল সুপার ওভার।
সহজ ম্যাচটাকে একেবারে পায়ে ঠেলে দিলেন আকবর। তবে ফিকে হয়ে আসা স্বপ্নটা তাকিয়ে ছিল রিপন মণ্ডলের দিকে। আর তাতেই স্বপ্ন ছুঁইয়ে দেখার সুযোগ পেল বাংলাদেশ। রিপনের প্রথম দুই বলেই শিকার দুই উইকেট। অর্থাৎ ভারত অলআউট হয়ে গেল কোন রান না তুলেই। ভগ্নস্তুপ থেকে রিপন যেন টেনে তুললেন একটা অবিশ্বাস্য জয়।
তবে কাজটা তখনও বাকি। একটা রান হলেই হয়, তবে এটা ইয়াসির রাব্বি হয়তো বোঝেননি। মিডউইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই বাংলাদেশকে আরও একবার বিপাকে ফেললেন। তবে শেষটাতে সুয়াশ শর্মার ওয়াইড বলটা বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিল এ যাত্রায়।

এদিন আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ অবশ্য তুলেছিল ১৯৪ রান। পরতে পরতে নাটকীয় মূহুর্ত তৈরি করা ম্যাচে অবশ্য জয়টা বাংলাদেশই পেল। বিধাতা আজ আর কোন আক্ষেপের গল্প লিখতে চাইলেন না, বাংলাদেশকে আন্দয়ের জোয়ারে ভাসালেন তিনি। আর ভারত দলের ঠিকানা হলো বাড়ির পথ!











