বাংলাদেশের স্কোরবর্ডে লিড ৩৭৬ রানের। তৃতীয় দিন শেষে ভীষণ স্বস্তি নিয়ে অন্তত মাঠ ছাড়তে পেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডও সম্ভবত খানিকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে পারল- এদফা আর তাদের ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কাটা নেই। বাংলাদেশ যে তাদেরকে ফলো-অনের মুখে ঠেলে দেয়নি।
অবশ্য এতে করে বাংলাদেশ দলকে তিরস্কার করবার খুব বেশি সুযোগ নেই। কেননা টেস্টের গ্রিপ যতই নিজেদের হাতে থাকুক না কেন, যে কোন টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা সাক্ষাত খাল কেটে কুমির আনার সমান। ২৬৫ রানে তৃতীয় দিনে অলআউট হয়েছে আয়ারল্যান্ড। অথচ তারা তৃতীয় দিন শুরু করেছিল ৯৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে।
অন্ততপক্ষে ২০০ রানের নিচে আয়ারল্যান্ডকে আটকে রাখতে পারলে হয়ত বাংলাদেশ ইনিংস ব্যবধানে জয়ের ভাবনা করতে পারত। কেননা তখনও যে আরও ২৭৬ রান করতে হতো আইরিশদের। সেক্ষেত্রে টার্গেট পেলেও সেটা খুব বেশি বড় হওয়ার সুযোগ অন্তত সৃষ্টি হতো না। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাংলাদেশ দল বাস্তবায়ন করতে এক প্রকার ব্যর্থই হয়েছে।

তাদেরকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন মূলত লরকান টাকার, স্টিফেন ডোহেনি ও জর্ডান নেইল। এই তিন ব্যাটার মিলে গড়েন ৮১ এবং ৭৪ রানের দুইটি ভিন্ন জুটি। তাতেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে জয়ের ভাবনা স্তিমিত হয়েছে, গৌধূলী লগ্নের মত করে। তবে সেসব ভুলে ২৬৫ রানে অন্তত আটকে ফেলা গেছে আয়ারল্যান্ডকে। এরপর বাংলাদেশ আবার ব্যাটিংয়েও নেমেছে।
দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় আবারও একটা শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন। তাতে করে মিরপুর টেস্টের পরিপূর্ণ লাগাম এখন বাংলাদেশের হাতে। আগামীকাল বাংলাদেশ পরিকল্পনা হওয়া উচিত একেবারেই সহজ ও সরল। জয়ের জন্য যথেষ্ট রান ও সময় দু’টোই রয়েছে। বোলারদের বিশ্রাম পাওয়ার সময়টুকু হতে হবে হিসেব কষা।
চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনের প্রায় অর্ধেকটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ব্যাটিং করতে চাইবে। তাতে করে রানের ট্যালিটা বাড়বে। পাশাপাশি বোলাররাও পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়ে পূর্ণ উদ্যমে মাঠে নামার মত শারীরিক শক্তি আর মানসিক তীক্ষ্মতা অর্জন করে ফেলবে। যেহেতু প্রায় ৮৮.৩ ওভার বোলিং করেছে বাংলাদেশের বোলাররা- জয়ের জন্য তাদের টপনচ পারফরমেন্সও যে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।












